Hashtagintro

মদে মেলায় তৃণমূল-বিজেপি! শত্রুতা ভুলে গ্লাস হাতে নেশার ঘোরে একযোগে ‘ভারত মাতা-জয় শ্রীরাম’ স্লোগান

মদের আসরে উদ্দাম নাচগান! আর তার মাঝেই ‘ভারত মাতা কি’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান! সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে স্থানীয় তৃণমূল ও বিজেপির নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। তবে ভিডিও সামনে আসতেই ক্রমশ রাজনৈতিক পারদ চড়ছে নদিয়ার তেহট্টের করিমপুর এলাকায়। শুরু হয়েছে জোরদার রাজনৈতিক তরজা।

ভিডিওটিতে থাকা বিজেপির শক্তি প্রমুখ ইন্দ্রজিৎ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, পুরোটাই একটি ‘ফেক ভিডিও’ এবং এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।

বিজেপির একাংশের দাবি, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, একটি ঘরের মধ্যে মদের আসর বসেছে। আর তার ঠিক মাঝেই চলছে নাচগান। বিজেপির এক নেতার অভিযোগ, এই আসরেই মদের গ্লাস হাতে দেখা গিয়েছে এলাকার এক তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানকে। পাশাপাশি, সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শক্তি প্রমুখ ইন্দ্রজিৎ ঘোষ এবং নিজেদের ‘বিজেপির কর্মী’ বলে পরিচয় দেওয়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এই ঘরোয়া আসরেই মদের গ্লাসের পাশাপাশি ‘ভারত মাতা কি’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার শব্দ শোনা গিয়েছে! যা নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই ঘটনায় বিরোধী ও শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি স্পষ্ট। 

ভাইরাল ভিডিও’র অংশ।

নদিয়ার বিজেপির ওবিসি মোর্চার সম্পাদক নিশীথ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকতে পারে, কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের এই ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। তিনি বলেন, “কেউ মদ খেতেই পারেন বা নাচগান করতেই পারেন, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু একটি ঘরের মধ্যে বিজেপির কর্মীরা তৃণমূলের লোকজনকে নিয়ে মদের আসর বসাবেন এবং সেই আসরে ‘ভারত মাতা কি’ ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলবেন—এটা দল মেনে নেয় না।” তিনি আরও জানান, ভিডিওতে বিজেপির জামা গায়ে যাদের এই কর্মকাণ্ডে দেখা গিয়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ঘটনার পর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দাবি উঠেছে, তাদের বিষয়ে ইতিমধ্যেই দলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে উচ্চ নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

ভিডিওতে এমনভাবে নাচ-গান করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে ভিডিওটিতে থাকা বিজেপির শক্তি প্রমুখ ইন্দ্রজিৎ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, পুরোটাই একটি ‘ফেক ভিডিও’ এবং এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই। অন্যদিকে, এই ভিডিও এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে বা কোনও মন্তব্য করতে চাননি স্থানীয় কোনও তৃণমূল নেতৃত্ব।

তবে ভিডিও সামনে আসতেই তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বাম-কংগ্রেস। করিমপুর দুই এরিয়া কমিটির সম্পাদক সিপিএমের লিয়াকত হোসেন জানান, যে তৃণমূল সেই বিজেপি এই কথা আমরা আগে থেকে বলে আসছিলাম, আজ প্রমাণ হয়ে গেল। অন্যদিকে গান্ধী পরিবারের খুব কাছের মানুষ কংগ্রেসের পূজা রায়চৌধুরী জানান, তৃণমূল বিজেপি কয়েনের এপিট ওপিট। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সে তো তৃণমূল কংগ্রেসের প্রোডাক্ট, এদের কালচার এর চাইতে বেশি কি আশা করা যায়।

তবে ভাইরাল ভিডিওটি সামনে আসতেই জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। তেহট্টের করিমপুরে পদ্ম শিবিরের নেতাকর্মীদের স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা সখ্যতা এবং রাজনৈতিক স্লোগানের এই ধরনের অপব্যবহার ঘিরে জনমানসেও তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। এখন দেখার, উচ্চ নেতৃত্ব এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Source: Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Education (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language