রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো। সেই আবহেই এবার মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে একেবারে চোখধাঁধানো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৩০০০ ড্রোনে হবে মায়ের আগমন। মহালয়ার সন্ধ্যায় ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর নানা অনুষঙ্গ। হবে সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রমও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়েছে। বিশেষ কাজ পড়ে যাওয়ায় তিনি আসতে পারছেন না বলে খবর। শোনা যাচ্ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনিও আসতে পারছেন না বলে খবর। তবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রিসভার সকল সদস্যরা। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। নবান্নের আধিকারিকদের কথায়, নতুন সরকারের আমলে এবারের দুর্গাপুজো বঙ্গবাসীকে একেবারে চমকে দেবে।
মহালয়ার ভোরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। সেই সময় গঙ্গাপাড়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ বাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য।
মহালয়াকে ঘিরে বড়সড় পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। জানা গিয়েছে, রেড রোডে এবার বিশেষ রোড শো-এর আয়োজন করা হয়েছে। আলোকসজ্জায় সেজে ওঠা রেড রোড ধরে পুজোর শোভাযাত্রায় থাকবে ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের নৃত্যকলা। যা তুলে ধরবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে। এছাড়াও ইডেনে এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারদিক। বেজে উঠবে ১০ হাজার ঢাক! মনে করা হচ্ছে এমন ঘটনা জায়গা করে নেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় শ্রেয়া ঘোষাল গাইবেন পুজোর গান।
এছাড়াও প্রত্যেক বছর মহালয়ার ভোরে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড় করেন হাজার হাজার মানুষ। সেই সময় গঙ্গাপাড়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ বাজানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য। এই বিশেষ আয়োজনের জন্য প্রাথমিকভাবে কলকাতার বড় বড় বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ঘাট বেছে নেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, মহালয়ার ভোরে কলকাতার বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, জাজেস ঘাট, নিমতলা ঘাট ও বাজা কদমতলা ঘাটে মাইকে মহিষাসুরমর্দিনী বাজানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘাটগুলিতে বড় আকৃতির রেডিওর প্রতিকৃতিও গড়ে তোলা হবে।
একইরকম ভাবে এবার যেমন কার্নিভাল হচ্ছে না, তেমনই বিজয়া সম্মিলনী হবে অভিনবভাবে। এ বিষয়ে সোমবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২৬ তারিখে আমাদের পুজো কমিটিগুলোকে নিয়ে একটা মিলন মেলাতে বিজয়া সম্মিলনী হচ্ছে। সেটা একটু অভিনব স্টাইলে আমরা করছি এবারে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার খাবারের স্টল থাকবে সেখানে। মানে গতানুগতিক যে ওই ক্যাটারারের খাওয়ারের মতো নয়। বিভিন্ন জেলার যা বিখ্যাত খাবার আছে মানে সবই সেখানে চেষ্টা করব আমরা রাখার।”
