”কর্মই আমার ধর্ম, ভারতের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবেই।” ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল গীতার শ্লোক। ‘মা ফলেষু কদাচন’ শ্লোক মোদির গলায়। কখনও ফলের আশা করেন না তিনি। কেবল দেশ ও দেশের মানুষের উন্নতিতেই কাজ করে যাওয়াই সংকল্প। সেই কথাই শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয়ী ভাষণে। ‘কর্মভূমি’ ভারতে নিজেকে ‘সেবক’ বলেই পরিচয় করালেন মোদি। নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তাও এদিন দিয়েছেন তিনি।
আজ, বুধবার বেলা ১০টার পরে দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়াম থেকে জনতার উদ্দেশে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের বিভিন্ন সময় আবেগপ্রবণ হয়েছেন মোদি। আবার পরক্ষণেই দেশের উন্নতিতে কঠিন বার্তা দেওয়ার সময় তাঁর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে। ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে মাথানত করে প্রণাম জানান তিনি। ‘উই উইল ডু ইট’ স্লোগানও দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে বরাবরই শিক্ষার্থী মনে করেন। সবসময়ই তিনি শিখছেন। “শেখার শক্তই যেন কখনও কম না হয়।” সেই কথা শোনা গিয়েছে তাঁর কণ্ঠে। করোনা পরিস্থিতি থেকে মাওবাদি দমন, জঙ্গি দমন ইস্যুতে পাকিস্তানকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে মোদির বার্তায়।
ভারতের উন্নতি, দেশের মানুষের বিকাশ, আধুনিক ভারত তৈরিই লক্ষ্য। ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যে সবসময় তিনি কর্মে নিযুক্ত। কখনও ফলের আশা না করে কর্ম করে যাওয়াই তাঁর সংকল্প। নিজেকে দেশের ‘সেবক’ বলে আরও একবার পরিচয় করিয়ে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। রাষ্ট্রসমৃদ্ধি, আত্মনির্ভরতার বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, “প্রতিবার জনতা সেবক হিসেবে আমাকে বেছে নিয়েছে। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যখন শপথ নিয়েছিলাম, তখন ভাবতে পারিনি, কখনও এই পর্বে আসব। সবই জনতা-জনার্দনের আর্শীবাদের ফল।”
প্রধানমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল স্বামী বিবেকানন্দের কথাও। মোদি বলেন, ‘আজ বিনায়ক মন্দিরে দেশবাসীর জন্য প্রার্থনা করেছি। কোটি কোটি দেশবাসীর আস্থা ও কর্মীদের পরিশ্রমের ফল। ২৫ বছরে অভিজ্ঞতার ঝুলি সম্পূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে কখনও একা বলে মনে হয়নি। সবসময় কর্মীদের পাশে পেয়েছি। প্রত্যেক ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়েছি। আমি নিজেকে এখনও শিক্ষার্থী মনে করি। কর্মই আমার ধর্ম।”
