শহরে ক্যাব চালক খুনের পিছনে শহরতলির লুটেরা গ্যাং? কলকাতার এন্টালিতে অ্যাপ ক্যাবের মধ্যে চালক ভগবানপ্রসাদ গুপ্তাকে খুনের নেপথ্যে এই প্রশ্ন উঠে আসছে। পুলিশের ধারণা, এর পিছনে উত্তর শহরতলির একটি লুঠেরা গ্যাং, যারা যাত্রী সেজে গাড়ির চালকদের কাছ থেকে ডাকাতি করে। ঘটনাটি ঘটেছে সম্ভবত মধ্যমগ্রামের কাছে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নির্জন স্থানে। হত্যার পর আততায়ীরা গাড়ি চালিয়ে অ্যাপ ক্যাবের চালক তথা মালিকের দেহটি গাড়িশুদ্ধ রেখে আসে পূর্ব কলকাতার এন্টালিতে। ক্যাব চালক খুনের তদন্তে নেমে এমনই ধারণা পুলিশের। চালকের লুট হওয়া মোবাইলের টাওয়ার ও সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে এমনই তথ্য উঠে আসছে।
বুধবার সকালে এন্টালির ডিসি দে রোডের ক্যাবের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ভগবানপ্রসাদের দেহ। তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ক্যাবের ভিতর থেকে তাঁর দুই পা বাঁধা অবস্থায় দেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মঙ্গলবার রাত প্রায় দশটা পর্যন্ত মধ্যমগ্রামেই দেখা গিয়েছিল ক্যাবটিকে। এরপর তা মধ্যমগ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পুলিশের মতে, তখনই তাঁর গাড়িতে দুই বা তিনজন যাত্রী ওঠে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ, সোনার চেন, আংটি লুট করে তারা। চালক বাধা দিলে তাঁর পা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর গলা টিপে খুন করে তারা।
খুনিদের মধ্যে একজন গাড়ি চালিয়ে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এন্টালিতে আসে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের যে জায়গায় ওই চালকের শেষ টাওয়ার ধরা পড়েছে, সেখানে কোনও সিসিটিভি নেই। তাই কাছাকাছি টোল ট্যাক্সের সিসিটিভি দেখে ওই গাড়িটি কোন পথে গিয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এন্টালিতে যে জায়গায় গাড়িটি রাখা ছিল, তার পাশেই একটি সিসিটিভি অকেজো। সেই খবর খুনিরা জানত, এমনটা হওয়াও সম্ভব। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উত্তর শহরতলিতে একটি লুটেরা গ্যাং রয়েছে, যারা যাত্রী সেজে গাড়ির চালকদের কাছ থেকে ডাকাতি করে। এই গ্যাংয়ের সদস্যরাই বাধা পেয়ে খুন করেছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
