নমাজ পড়তে মসজিদই বাধ্যতামূলক নয়, বৃহত্তর স্বার্থে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণে কোনও ধর্মীয় স্থান বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না-মসজিদ মামলায় বুধবার কলকাতা হাই কোর্টে এমন দাবি করেন দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিন শুনানিপর্বে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আইনজীবী সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, “এয়ারপোর্ট একটি পাবলিক ল্যান্ড। নমাজের জন্য মসজিদে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যে কোনও জায়গাতেই নমাজ পড়া যেতে পারে। বিদেশে এমন একাধিক উদাহরণ আছে।”
বুধবার শুনানিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেন, “বিমানবন্দরের রানওে সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে জমিটি প্রয়োজন। অনেক আগেই ওই জমিটি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারির একটি বিজ্ঞপ্তিও রয়েছে।” এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, জমিটি কার কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল? সৌমেন্দ্রনাথের বক্তব্য, “স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জমিটি অধিগ্রহণ করা হয়। মসজিদের জন্যও ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। ১৯৫৫ সালে সকলকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “যে কেউ তাঁদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট স্থানেই তা করবেন, এমন দাবি জানাতে পারেন না। যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে, সেখানে মৌলিক অধিকারের নিয়ম খাটে না।”
দমদম বিমানবন্দর চত্বরে বাঁকড়ায় একটি মসজিদ রয়েছে। গত ১১ জুলাই থেকে ওই মসজিদে প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীর দাবি, ১৩৬ বছর ধরে ওই মসজিদ রয়েছে। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে ওই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও এখন তা বন্ধ। আবেদনকারীর তরফের আইনজীবী কিশোর দত্ত সওয়াল করেন, ৫০-৬০জন মুসলিমকে বাসে করে ওই মসজিদে পৌঁছে দিতেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এখন তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর যুক্তি, মসজিদের জমি এখনও অধিগ্রহণ করেনি বিমানবন্দর। তার আগে কীভাবে যাতায়াতে রাশ টানা যায়? বুধবারের শুনানিতে সৌমেন্দ্রনাথ বলেন, “এটি রাতারাতি করা হয়নি, সকলের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। এখানে জাতীয় ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জড়িত, তাই কোনও অন্তর্বর্তিকালীন আদেশের প্রয়োজন নেই।” বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যুক্তি, বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মীয় স্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় সড়ক নির্মাণের জন্য গির্জা, মন্দিরের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মীয় স্থানের জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের অধিকার আছে। ওই জমি যে রাজ্যের সেটাও জানেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, এই মামলায় কেন্দ্রের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী বেলন, “সংবিধান অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সময় মসজিদ বলে আলাদা সুবিধা দেওয়া যায় না। বিমানবন্দরের রানওয়ের মাঝ পড়ছে এই মসজিদ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও রিপোর্ট এসেছিল, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এভাবে সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “এটি কোনও হেরিটেজ নয়। পাবলিক প্লেসে মৌলিক অধিকার প্রাধান্য পায় না।” ৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
