Hashtagintro

রাঢ়বঙ্গের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের ঐতিহাসিক অন্নভোগে খাঁটি স্বাদ, শুদ্ধতার অপর নাম লালবাবা রাইস

শারদোৎসবের দিনগুলোতে উৎসবের আমেজ মানেই বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভক্তের আকুতি। সর্বসাধারণের কাছে পূজার আনন্দ কেবল আড়ম্বরে নয়, নৈবেদ্য ও অন্নভোগের শুদ্ধতায় পরিবারের মঙ্গল কামনাও বটে। বিশেষ করে রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার পূজায় সেই ঐতিহ্যের টান আরও গভীর।

বর্ধমানের উত্তরাংশের সর্বমঙ্গলা পাড়ায় প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে এক বাগদির জালে ধরা দিয়েছিল দেবীর শিলামূর্তি। শামুক-গুগলির সঙ্গে চুনের ভাটায় পোড়ানোর পরেও যা ছিল অক্ষত। তারপর থেকেই শুরু হয় দেবী সর্বমঙ্গলার আরাধনার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। বর্ধমানরাজ কীর্তিচাঁদের উদ্যোগে ১৭০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় অবিভক্ত বাংলার প্রথম নবরত্ন মন্দির। অষ্টাদশভূজা দেবীর নিত্যপূজায় রয়েছে এক অনন্য উপাচার। অন্নভোগে প্রতিদিন মাছের টক থাকা বাধ্যতামূলক। কৃষ্ণসায়র চাঁদনীঘাট থেকে রুপোর ঘটে রাজকীয় ঘোড়ার গাড়িতে করে জল এনে ঘট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় উৎসব। এখানে দেবীর আলাদা বোধন বা প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় না, কারণ তিনি সদা জাগ্রত।

সর্বমঙ্গলা মন্দিরের এই অন্নভোগ ও নৈবেদ্যর চালের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার এক আদি ঐতিহ্য। আর বর্ধমানের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতে হয় লালবাবা রাইসের কথা। গত ৬০ বছর ধরে আমাদের বাংলার বর্ধমানের মাটিতে চাষ হওয়া ধানের শুদ্ধতা ও গুণমানকে আপনাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে বিশ্বাস, ঐতিহ্য আর নির্ভরতার এক অবিচ্ছেদ্য নাম হয়ে উঠেছে লালবাবা রাইস। তাই দেবীর চরণে নিবেদিত নৈবেদ্য হোক, কিংবা অন্নভোগ, দেবীর উপাসনায় আপনারা চোখ বুজে ভরসা করতে পারেন লালবাবা রাইসের উপর।

দিনের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় মেনে নানান উপাচারে মা-কে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন সকালে মাকে ভোগে নিবেদন করা হয় লুচি তরকারি এবং মরশুমি ফল। আর দুপুরের অন্নভোগে থাকে গোবিন্দভোগ চালের ভাত, পায়েস, পোলাও, দুই রকম তরকারি, ডাল এবং চাটনি। দুর্গাপুজোর সময় প্রতিপদ থেকে ভোগের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। তবে মাছের টক সেখানে থাকবেই। সাধারণত মাগুর মাছের টকই মাকে নিবেদন করা হয়।

সর্বমঙ্গলা মন্দিরের এই অন্নভোগ ও নৈবেদ্যর চালের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার এক আদি ঐতিহ্য। আর বর্ধমানের প্রসঙ্গ উঠলেই বলতে হয় লালবাবা রাইসের কথা। গত ৬০ বছর ধরে আমাদের বাংলার বর্ধমানের মাটিতে চাষ হওয়া ধানের শুদ্ধতা ও গুণমানকে আপনাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে বিশ্বাস, ঐতিহ্য আর নির্ভরতার এক অবিচ্ছেদ্য নাম হয়ে উঠেছে লালবাবা রাইস। তাই দেবীর চরণে নিবেদিত নৈবেদ্য হোক, কিংবা অন্নভোগ, দেবীর উপাসনায় আপনারা চোখ বুজে ভরসা করতে পারেন লালবাবা রাইসের উপর।

উৎসবের দিনগুলোতে লালবাবা রাইসের চালের গুণমান ও শুদ্ধতা আপনার বাড়ির শারদীয় আয়োজনকে ভরিয়ে তুলুক অপার তৃপ্তিতে। বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং নিখাদ নির্ভরতার হাত ধরে এই দুর্গাপূজায় দেবীর চরণে নৈবেদ্য অর্পণ করুন সেরা চাল দিয়েই।

Source: Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language