Hashtagintro

রাধামাধবের ঠাকুরদালানে দুর্গা আরাধনা, কাঁটাবেড়িয়ার এই পুজোয় এসেছিলেন কাজী নজরুল ইসলামও!

উইঢিবি থেকে বেরিয়ে আসত আতপ চাল! সেই চাল দিয়েই শুরু হয়েছিল রাধামাধবের আরাধনা। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই জড়িয়ে রয়েছে প্রায় দেড়শো বছরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস। কথিত আছে, গুহায় বসেই একসময় সাধনা করতেন সিদ্ধপুরুষরা। এমনকী ওই গুহার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুড়ঙ্গপথের রহস্যময় কাহিনিও। যে পথ ধরে নাকি একসময় বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যেত! ইতিহাস, লোকবিশ্বাস আর অলৌকিক কাহিনির এমনই এক আশ্চর্য মেলবন্ধন দুর্গাপুর-ফরিদপুরের কাঁটাবেড়িয়ার প্রাচীন মন্দির। সময় বদলেছে, বদলেছে চারপাশের ছবিও। এই মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বৃন্দাবনের দামোদর চন্দ্র ব্রজবাসীর নাম।

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি বীরভূম থেকে পশ্চিম বর্ধমানের উখড়া মোহন্ত আশ্রমে যাতায়াত করতেন। হাতির পিঠে চেপে যাত্রাপথ ছিল প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সেই দীর্ঘ পথে কাঁটাবেড়িয়া এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতেন। আর এমনই একদিন বিশ্রাম নিতে এসে তাঁর নজরে পড়ে এক আশ্চর্য দৃশ্য। একটি উইঢিবি থেকে বেরিয়ে আসছে আতপ চাল! সেই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়ে যান তিনি। এরপর সেই চাল দিয়েই শুরু করেন রাধামাধবের পুজো। কথিত আছে, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে ওই স্থানের ধর্মীয় গুরুত্ব বাড়তে থাকে। পরবর্তীকালে রাধামাধবের মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয় দেবী দুর্গাকে। আর সেই থেকেই কাঁটাবেড়িয়া এলাকায় শুরু হয় দুর্গাপুজোর এক নতুন অধ্যায়।

পশ্চিম বর্ধমানের উখড়া মোহন্ত আশ্রম। নিজস্ব ছবি।

প্রায় দেড়শো বছর ধরে চলে আসা এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এলাকার মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছে। প্রবীণদের দাবি, একসময় এই তল্লাটে দুর্গাপুজোর প্রচলন খুব একটা ছিল না। সেই সময় কাঁটাবেড়িয়ার এই মন্দিরের পুজোই হয়ে উঠেছিল আশপাশের এলাকার মানুষের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় আগের বছরের প্রতিমার কাঠামো বিসর্জন দেওয়া হয়। এরপর নতুন প্রতিমা তৈরি করে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, একসময় এই মন্দিরে এসেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি মন্দির ঘুরে দেখেছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language