দুর্গাপুরের (Durgapur) একাধিক হোটেলের রান্নাঘরে থরে থরে সাজানো বাসি, পুরনো ও পচা খাবার! শুধু তাই নয় ফ্রিজের ভেতর রাখা রয়েছে কুকুরের খাবারও। কোথাও ফাঙ্গাস ধরা চিকেন, কোথাও পনিরে ছেয়ে গিয়েছে ছত্রাক। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হয়েছে বহুদিনের পুরনো মশলা, বাসি ভাত, বাসি তরকা, চানা মশলা-সহ নানা ধরনের খাবার ও খাদ্যসামগ্রী। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা হানা দিতেই প্রকাশ্যে ভয়ংকর ছবি।
দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার একাধিক হোটেলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, দুর্গাপুর নগর নিগম ও পুলিশের যৌথ অভিযান চালায়। হোটেলগুলির রান্নাঘর ও খাবার সংরক্ষণের জায়গায় তল্লাশি চালাতেই একের পর এক অনিয়ম সামনে আসে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযোগ, হোটেলগুলিতে দীর্ঘদিনের পুরনো খাবার মজুত থাকলেও সেগুলির গায়ে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা প্রয়োজনীয় ট্যাগ লাগানো ছিল না। কোন খাবার কবে তৈরি হয়েছে, কতদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট হিসাব ছিল না। ফলে সেই খাবার গ্রাহকদের পরিবেশন করা হলে শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এখানেই শেষ নয়। মানুষের খাবারের সঙ্গেই রাখা হয়েছিল কুকুরের খাবার!
হোটেলের ম্যানেজারদের কড়া ধমক দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার সংরক্ষণের নির্দেশ দেন আধিকারিকরা। কুকুরের খাবার মানুষের খাবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় রাখারও নির্দেশ দেন তাঁরা। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের দুর্গাপুরের আধিকারিক শুভম ঘোষ জানান, “আমরা এইসব বাসি, পচা ও পুরনো খাবার উদ্ধার করেছি। কুকুরের খাবারও মানুষের খাবারের সঙ্গে রাখা ছিল। সেগুলি যাতে আলাদা করে রাখা হয়, তা জানানো হয়েছে। হোটেলগুলিতে জরিমানাও করা হয়েছে। আগামী দিনে এইভাবে খাবার রাখলে আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
