ট্রাক, ট্রাক্টরে নয়। কখনও রাস্তা থেকে, আবার কখনও বাড়ি থেকে গরু চুরি করে ইনোভা, স্করপিও, বোলেরোতে করে মাসখানেক ধরে চলছিল গরুপাচার। রাস্তা থেকে গরু গাড়িতে তুলে নেওয়ার সেই ভিডিও বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা পুলিশের হাতে তুলে দিতেই আন্তঃরাজ্য গরুপাচার চক্রের পর্দা ফাঁস করে বড়সড় সাফল্য পেল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। এক এক করে এই পাচার চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কিংপিনকেও জালে তুলল। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে প্রথমে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কিংপিনকে মঙ্গলবার পাকড়াও করে। তারপর বুধবার রাতে লিংকম্যানকে জালে তুললে মোট ৭জন গ্রেপ্তার হয়।
এই গ্যাংয়ের ৬ সদস্যই ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসোওয়া জেলার চাণ্ডিল থানার কাপালি আউটপোস্ট এলাকার বাসিন্দা। তাদের নাম কিংপিন মহম্মদ কবির হুসেন। বাকিরা নজরুল মীর, শেখ শোয়েব, শাহনাজ খান, শেখ মহম্মদ ওয়াসিম আক্রম, মইন আনসারি। লিংকম্যান মহম্মদ আনোয়ারের বাড়ি পুরুলিয়া (Purulia) শহরের কসাই মহল্লাতে। তাদের কাছ থেকে ৬ টি গাড়ি ও ৬টি গরু বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই গাড়িগুলির মধ্যে চারটি গাড়ির কোন নম্বর প্লেট নেই। বাকি দুটির নম্বর থাকলেও তা ভুয়ো। ওই গাড়িগুলির চেসিস নম্বর নিয়ে সংশ্লিষ্ট গাড়ির কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ বলেন, “গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ভিডিও পেয়ে আমরা এই সাফল্য পাই। কিংপিন-সহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬টি গাড়ি ও গরু বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত চলছে।”

পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় ধৃত লিংকম্যান ওই অপরাধ করতে সহায়তা করত। গত এক মাস ধরে ঝাড়খণ্ডের এই গ্যাং সীমানা ছুঁয়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় ঢুকে বরাবাজার, বলরামপুর, ঝালদা, আড়শা, কাশিপুর এবং রেল শহর আদ্রা পর্যন্ত এই অপরাধ করে যাচ্ছিল। তাদের এই অপরাধের মোডাস অপারেন্ডি ছিল ছোট গাড়ির পিছনের সিট খুলে দিয়ে রাস্তা থেকে গরু তুলে তা পাচার!
একেবারে গোয়েন্দাদের মতো বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের কাছে ভিডিও পাঠানোর পর তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ কর্তাদের। তারপরেই তদন্ত শুরু করে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অভিযান ) বিদ্যাগর অঞ্জিকা অনন্তর তত্ত্বাবধানে স্পেশাল অপারেশন গ্ৰুপের ওসি সাব ইন্সপেক্টর জয়ন্ত চক্রবর্তীকে নিয়ে এই সাফল্য পায় পুরুলিয়া পুলিশ। আড়শা থানার বালিয়াতে রাস্তা থেকে গরু তোলার সময় ওই থানা এলাকার এক সাব ইন্সপেক্টর তাদের ধাওয়া করলে ওই গ্যাং-র সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তবুও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নজরদারি চালিয়ে এই সাফল্য।
