রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাখা হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’। আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি হস্তান্তর করা হবে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে। হুগলির পরশুড়ার একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়, আলু চাষিদের জন্য ঘোষণা করতে পারেন বিশেষ প্যাকেজেরও। আর তা নিয়েই আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে ইতিমধ্যে দুটি কিস্তির টাকা পেয়ে গিয়েছে। ৬ হাজার টাকার দুই দুই চার হাজার পেয়ে গিয়েছেন। বাকি কিস্তির টাকা রাজ্যের তরফে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছিলেন, পরশুড়ার সভা থেকে সেই টাকা দেওয়া হবে। সেই সভারই চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে হুগলির পরশুড়ার। যা নিয়ে বিপুল উৎসাহ কৃষকদের মধ্যে। তবে গত কয়েক বছরে আলু চাষ করে কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছেন চাষিরা। এখনও অনেক চাষির আলু স্টোরে মজুত আছে। দাম না পাওয়ায় স্টোরে আলু রাখার খরচ চালানোই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আলুচাষের জন্য কী প্যাকেজ ঘোষণা করবেন, সেদিকে তাকিয়ে কৃষকরা।
ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল প্রস্তুতির কাজ জোরকদমে চলছে। মূল মঞ্চের সামনে তিনটি শেড করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, হুগলির বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু সাধারণ কৃষক এই সভায় হাজির থাকবেন। সেই মতো প্রশাসনের তরফে যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যাতে সভায় আসতে পারেন তার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে কয়েকশো বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চের সামনে ৪০ হাজার চেয়ার থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল এদিন থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানান, হুগলি মূলত কৃষকদের জায়গা। আলু চাষিদের নিয়ে কি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। তা জমা দিয়েছিলাম। প্যাকেজে কি ঘোষণা করেন সেদিকে সবার নজর রয়েছে। বিধায়কের কথায়, শুধু আলু চাষিদের জন্য নয়, কৃষকদের জন্য বড় কিছু অপেক্ষা করছে।