মাত্র মাস পাঁচেকের ব্যবধানে রাজ্যের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন! আজ, মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ময়দানে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই সুযোগে কার্যত বিরোধী হয়ে লড়াই দিচ্ছে কংগ্রেস। সকাল থেকে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে রাস্তায় নেমে পড়েছেন সদ্য জামিনে মুক্ত হওয়া প্রার্থী মিলন প্রধান। নিজের ভোট দেওয়ার পর সোনাচূড়ার বুথে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তিনি। ঘিরে ধরা হল প্রার্থীকে। সেখান থেকে ফোনে কমিশনে নালিশ জানিয়েছেন মিলন। অন্যদিকে, আক্রান্ত হয়েছেন সিপিআই প্রার্থীর এজেন্টও। সরবেড়িয়ায় সংঘর্ষের জেরে আহত হয়ে এজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে খবর।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে স্রেফ জয় নয়, খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা আসনে ব্যবধান বাড়ানোই বিজেপির আসল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে ময়দানে নেমেছেন শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। তিনি ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জেতার লক্ষ্যমাত্রা তাঁর। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান আগেই নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী এহতেশামুল হক লড়ছেন নামমাত্র। রয়েছেন সিপিআই প্রার্থী শান্তি গিরি। আর কংগ্রেসের মিলন প্রধান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে তাঁকেই দেখা গেল নন্দীগ্রামের বুথে বুথে। সকালে তিনি স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে নিয়ে কেন্দামারির বুথে ভোট দেন। এরপর বিভিন্ন বুথে পরিদর্শন করতে যান। সোনাচূড়ার জলপাইয়ের বুথে তিনি পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় প্রার্থীকে। বুথের ভোটাররা তাঁকে ঘিরে ধরেন।

পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর আগেই অবশ্য ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসরাফুলতুল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এনিয়ে অভিযোগ জানান মিলন। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন বুথে আমাদের এজেন্টদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। এটা তো গণতন্ত্রের পরীক্ষা। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে আমাদের আটকাতে হচ্ছে কেন? আসলে নন্দীগ্রামের মানুষ এবার চাইছেন কোনও ভূমিপুত্রকে বিধায়ক হিসেবে দেখতে। আমি নিজে সব বুথে যাওয়ার চেষ্টা করব। যা অশান্তি হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে জানাব।”
