Hashtagintro

শরিয়া অনুযায়ী মুসলিম ওমর ও কাশ্মীরি পণ্ডিত নিধির বিয়ে অবৈধ, ঘোষণা জামাত প্রধানের

দিন দুয়েক আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও সাংবাদিক নিধি রাজদান। রসিকতার সুরে সোশাল মিডিয়ায় নিধি লিখেছিলেন, ‘ইটস ডান ব্রো’। যদিও ভিন ধর্মে বিয়ে নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। সোমবার অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রাজভি বেরেলভি ঘোষণা করলেন, ইসলামি নীতি অনুযায়ী ওমর-নিধির বিয়ে অবৈধ। বলা বাহুল্য, এই ঘোষণায় অস্বস্তি বাড়ল হাই প্রোফাইল নব বর-বধূর।

জামাত প্রধান রাজভির সাফ কথা, ইসলামী নীতি অনুযায়ী এই বিবাহকে বৈধ বলে গণ্য করা যায় না। কারণ শরিয়া অনুযায়ী কোনও বিবাহকে আইনত বৈধ হতে হলে উভয় পক্ষকেই মুসলিম হতে হবে। তিনি জানান, আবদুল্লা মুসলিম হলেও রাজদান মুসলিম নন, ফলে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁদের এই বিবাহ অনুমোদিত নয়। ধর্মীয় নেতা আরও বলেন, আবদুল্লার উচিত ছিল তাঁদের নিকাহর (বিয়ের) আগেই রাজদানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো।

জামাত সভাপতির এই বক্তব্য ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তির স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। যদিও ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী বিবাহের বৈধতাকে নির্ধারণ করে আইন, সেক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় ফতোয়া বাঁধা হতে পারে না। যদিও কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের মেয়ে নিধিকে বিয়ের সিদ্ধান্ত ওমরের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন ন্যাশনাল কনফারেন্সের অন্দরে ফাটল তৈরি হয়েছে। রবিবার ন্যাশনাল কনফারেন্সের ২৫ বিধায়ক দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। একটি চরমপত্র দিয়ে তাঁরা জানিয়েছেন, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার শ্রীনগরে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে চারহাত এক হয় ওমর ও নিধির। পরিবারের হাতেগোনা কিছু লোকজন উপস্থিত ছিলেন বিয়েতে। ওমরের বাবা তথা ন্য়াশনাল কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট ফারুখ আবদুল্লা, মা মলি আবদুল্লা নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। ওমরের তিন বোনও যোগ দেন বিয়ের অনুষ্ঠানে। নিধির বাবা, প্রবীণ সাংবাদিক এমকে রাজদান এবং মা সরলা রাজদানও উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৪ সালে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা রামনাথের মেয়ে পায়েল নাথে সঙ্গে বিয়ে হয় ওমরের। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওমর জানান, পায়েল এবং তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদে সিলমোহর দেয়। অন্য দিকে, নিধির প্রথম স্বামী সাংবাদিক তথা লেখক নীলেশ মিশ্র। ২০০৫ সালে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০০৭ সালে। এবার জীবনের দ্বিতীয় অধ্য়ায়ের সূচনা করলেন ওমর এবং নিধি।

Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin India (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language