ফুটবল উৎসবের এমন আবহে ডার্বির স্বাদ মিলে গেলে বাঙালির কাছে তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী! ব্রাজিল-উরুগুয়ের ফুটবল-উন্মাদনার মধ্যেই হাজির মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। মরশুমের পরিসংখ্যানও বলছে, লড়াইয়ে এখনও কেউ কাউকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। কলকাতা লিগে ড্র। ডুরান্ড কাপে একবার করে জয়। দু’দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ।
এমন আবহে আইএফএ শিল্ড ফাইনালের ডার্বির শুরু থেকেই দু’দলের খেলাতেই আগ্রাসী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ৬ মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। রামিরেজের বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। ডান দিকে বল রাখলেও তাঁর শট আটকে দেন বিশাল কাইথ। ১৫ মিনিটে পালটা আক্রমণ মোহনবাগানের। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে ইস্টবেঙ্গলের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যান লি এরউইন। তবে তাঁর শটে জোর না থাকায় সহজেই তা তালুবন্দি করেন ফুরবা লাচেনপা।
৩৬ মিনিটে ফের দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা মোহনবাগানের। রশিদের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ছাংতেকে দেন জেলকোভিচ। মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গা থেকে ছাংতের দূরপাল্লার জোরালো শট অবশ্য দুর্দান্ত দক্ষতায় বিপদমুক্ত করেন লাচেনপা। এক মিনিট পরেই ফের ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারের পরীক্ষা নেন সাহাল। বক্সের ডান দিক থেকে তাঁর নিচু হাফ-ভলি বাঁ দিকের পোস্ট লক্ষ্য করে এগোলেও দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার।
এতক্ষণ যে চাপ তৈরি করছিল মোহনবাগান, তারই ফল হাতেনাতে মেলে বিরতির ঠিক আগে। ৪৫ মিনিটে গোল করে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন জেলকোভিচ। বক্সের বাইরে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সের ভুল থেকে বল পেয়ে যান সাহাল। তিনি চিপ করে বল তুলে দেন সমিরের উদ্দেশে। সুযোগ বুঝে বল নিয়ে সোজা বক্সে ঢুকে পড়েন বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ফুটবলার। ঠান্ডা মাথায় বল জড়িয়ে দেন জালে। ডার্বির প্রথমার্ধ শেষ হয় মোহনবাগানের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায়। তবে প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে আনোয়ার আলি না থাকায় বারবার সমস্যার মধ্যে পড়েছে লাল-হলুদ রক্ষণ। এখন দেখার, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে নামান কি না ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল যে গোলের জন্য ঝাঁপাবে, সে কথা বলাই বাহুল্য।
