নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ভূমিপুত্র তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থীকে একলক্ষ ভোটের টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন। উপনির্বাচনের গণনা শুরু হতেই ঝড়ের গতিতে এগোতে শুরু করেছিলেন হাসিরানি রথ। ঘড়ির কাঁটা ১ টা ছোঁয়ার আগেই ‘লক্ষভেদ’ করে ফেললেন তিনি। এদিকে মুসলিম অধুষ্যিত রেজিনগরেও ফুটল পদ্ম। ধারে কাছেই নেই কোনও দল। বাংলা যে বিজেপিকেই চায়, ভোটবাক্সে আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল আমজনতা।
নন্দীগ্রামে ১৪ রাউন্ড গণনা শেষে ১১৫৫৮৯ ভোটে এগিয়ে হাসিরানি। এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। তিনি পেয়েছেন ৩০৯১৩ ভোট। তৃতীয়স্থানে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৭৫। রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এগিয়ে রয়েছেন ৫৫ হাজার ৮১ ভোটে। হুমায়ুন কবীরের ছেলের প্রাপ্ত ভোট ১৮৩৪৫।
বিধায়ক শূন্য হয়ে যাওয়ায় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হয় গত ৬ অক্টোবর। নন্দীগ্রাম আসনটি যে বিজেপির দখলে থাকবে তা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। তবে ব্যবধান কতটা হবে, হাসিরানি কতটা ভোট পাবেন, সেটাই ছিল দেখার বিষয়। যদিও প্রথম থেকেই হাসিরানি ও নন্দীগ্রামের মানুষের উপর ভরসা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ১ লক্ষের বেশি ভোট বিজেপি প্রার্থী পাবেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের মানুষকে তিনি বারবার বলেছিলেন তাঁদের জন্য তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। শুভেন্দু ও বিজেপির উপর ভরসা রাখল নন্দীগ্রাম। ১৪ রাউন্ড গণনা শেষে ১১৫৫৮৯ ভোটে এগিয়ে হাসিরানি। অর্থাৎ শুভেন্দুর রেকর্ডও ভেঙে দিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। তিনি পেয়েছেন ৩০৯১৩ ভোট। তৃতীয়স্থানে সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪ হাজার ৭৭৫। ধারে কাছেই নেই ঋতব্রতরা।
তবে রেজিনগরের ফলাফল নিয়ে নানামহলে ছিল নানামত। কারণ, একদিকে মুসলিম ভোট। অন্যদিকে খোদ হুমায়ুন কবীরের ছেলে সেখানকার প্রার্থী। কিন্তু ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা গেল, মুসলিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিল বিজেপি। মুসলিম অধুষ্যিত রেজিনগরেও ফুটল পদ্ম। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার এগিয়ে রয়েছেন ৫৫ হাজার ৮১ ভোটে। ওই আসনে দ্বিতীয় স্থানে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। হুমায়ুন কবীরের ছেলের প্রাপ্ত ভোট ১৮৩৪৫। তৃতীয়স্থানে কালীঘাট তৃণমূল। অর্থাৎ সমস্ত ধারণা কার্যত ওলটপালট করে দিল মানুষ। বুঝিয়ে দিল তাঁরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দুর্নীতিহীন বাংলার পক্ষে।
