বাংলাদেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শৈশব কেটেছে এপার বাংলায়। বাবার হাত ধরে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতে বেশ কয়েক বছর কেটেছে তাঁর। সেই স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির ওই পাড়ায় পরিদর্শনে এলেন বাংলাদেশের ‘জিয়া সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ’-এর প্রতিনিধিরা। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতায় খালেদাপুত্র তারেক রহমান। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে ‘জিয়া সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ চালু হয়। সেন্টারের সম্পাদক প্রদীপচন্দ্র সাহার দাবি, দেশের বাইরে কোথায় কোথায় খালেদা জিয়ার স্মৃতি জড়িয়ে সেই সব স্থান পরিদর্শন করছেন তাঁরা। উদ্দেশ্য এই স্থানগুলোকে সংরক্ষণ করা।
খালেদা জিয়ার বাবা মহম্মদ ইসকান্দর কাজ করতেন জলপাইগুড়ির থানা মোড়ের ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে। খালেদার পড়াশোনা সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ে। বিউটি নামেই পরিচিত ছিলেন পাড়ায়। বান্ধবীরাও তাঁকে এই নামে ডাকতেন।

বর্তমানে নয়াবস্তির ওই বাড়িটির মালিক চক্রবর্তী পরিবার। বর্তমানে তাঁরা বাইরে থাকেন। বাড়িটি তালাবন্ধ। বৃহস্পতিবার বন্ধ এই বাড়ি বাইরে থেকে ঘুরে দেখেন ‘জিয়া সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর সম্পাদক প্রদীপচন্দ্র সাহা। তিনি জানান, দেশে ফিরে রিপোর্ট করবেন। বাংলাদেশ সরকার উৎসাহী। ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে যাতে এই বাড়িটিকে সংরক্ষণ করা হয় এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন। নয়াবস্তি পাড়ার প্রবীণ অনেকেরই স্মৃতিতে গাঁথা রয়েছে খালেদা জিয়া পরিবারের গল্প। খালেদা জিয়ার বাবা মহম্মদ ইসকান্দর কাজ করতেন জলপাইগুড়ির থানা মোড়ের ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে। খালেদার পড়াশোনা সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ে। বিউটি নামেই পরিচিত ছিলেন পাড়ায়। বান্ধবীরাও তাঁকে এই নামে ডাকতেন।
এরপর সাতচল্লিশে দেশভাগ হয়। সম্পত্তি বিনিময় করে পরিবারের তিস্তাপাড় ছেড়ে পদ্মাপাড়ে চলে যায় খালেদার পরিবার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে এবং রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান থেকে বিউটির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া – এক দীর্ঘ যাত্রা। খালেদাকে এই শহরের মেয়ে হিসেবেই বরাবর মনে করে আসছে জলপাইগুড়ি। তাঁর মৃত্যুতে চোখের জল ফেলেছেন এই শহরের অনেকেই। স্মৃতিবিজড়িত খালেদা জিয়ার বাড়ি সংরক্ষণ নিয়ে উদ্যোগের কথা শুনে উৎসাহিত এ পাড়ার কালীদাস সরকারের মতো অনেকেই।
