Hashtagintro

সকালে ঠাকুর দেখতে বেরনোর তাড়ায় পেটে পড়েনি দানাপানি? মাঝপথেই হতে পারে বড় বিপদ!

পুজোর সকালে হাতে সময় কম। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে ঠাকুর দেখতে। কোন মণ্ডপে আগে যাবেন, কোথায় ভিড় কম, কোন রাস্তা দিয়ে গেলে সময় বাঁচবে, সেই পরিকল্পনায় অনেক সময় ব্রেকফাস্টের কথাই মাথায় থাকে না।

কেউ আবার ভাবেন, বাইরে গিয়ে কিছু খেয়ে নিলেই হবে। কিন্তু সকাল থেকে খালি পেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরাঘুরি করলে শরীর যে কোনও সময় বেঁকে বসতে পারে। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পুজোর প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনায় প্রাতরাশকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

খালি পেটে বেরলেই বিপদ?
রাতের খাবারের পর দীর্ঘ সময় কেটে যায় সকাল পর্যন্ত। তার পরেও কিছু না খেয়ে হাঁটাহাঁটি শুরু করলে কারও কারও দুর্বল লাগতে পারে। বিশেষত যাঁরা খুব ভোরে বেরিয়ে পড়েন, পর্যাপ্ত জল পান করেন না বা দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম ছাড়া ঘোরেন, তাঁদের ক্লান্তি বাড়তে পারে।

খালি পেটে থাকলে কারও অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা বা বমি বমি ভাবও হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই সমস্যা দেখা দেবে, এমন নয়। শরীরের অবস্থা, আগের রাতের খাবার, ঘুম এবং কতটা পরিশ্রম করছেন, তার উপর বিষয়টি নির্ভর করে।

durga puja breakfast health tips
চিঁড়ের পোলাও। ছবি: সংগৃহীত

ব্রেকফাস্টে কী খাবেন?
পুজোর সকালে এমন খাবার বেছে নেওয়া ভালো, যা পেট ভরাবে, সহজে হজম হবে এবং কিছুক্ষণ শক্তি জোগাবে। রুটি বা আটার পাউরুটির সঙ্গে ডিম, দুধের সঙ্গে ওটস বা সবজি দিয়ে তৈরি উপমা খেতে পারেন। চিঁড়ের পোলাও-ও ভালো বিকল্প হতে পারে। সঙ্গে একটি ফল রাখা যায়। তবে শুধু চা-বিস্কুট খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরার পরিকল্পনা ঠিক নয়।

খাবারের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত, যাতে পেট ভার না হয়, আবার দ্রুত খিদেও না পায়। যাঁদের নির্দিষ্ট কোনও খাবারে অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পরিচিত খাবারই বেছে নেওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস থাকলে বাড়তি সতর্কতা
ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর কিছু ওষুধ ব্যবহার করলে খাবারের সময় এদিক-ওদিক হওয়ায় রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও ওষুধের সময় মেনে চলুন। সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শমতো দ্রুত শর্করা জোগায় এমন খাবার রাখুন, যা রক্তে শর্করা কমে গেলে ব্যবহার করা যায়। ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

durga puja breakfast health tips
ব্রেকফাস্ট স্কিপ নয়। ছবি: সংগৃহীত

সঙ্গে জল ও হালকা খাবার রাখুন
এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যেতে গিয়ে কখন যে কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়, তা টের পাওয়া যায় না। তাই সঙ্গে জলের বোতল রাখুন। প্রয়োজনে কলা, আপেল, অল্প বাদাম বা বাড়িতে তৈরি হালকা খাবার সঙ্গে নিতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন। মাথা ঘুরলে বা দুর্বল লাগলে জোর করে হাঁটবেন থাকবেন না। 

প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে আগের রাতেই কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো প্রাতরাশ, সঙ্গে জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকলে অনেক অস্বস্তি এড়ানো যায়। বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও বাড়ি থেকে বেরনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিন। মনে রাখবেন, পুজোয় বেশি মণ্ডপ দেখা নয়, সুস্থ শরীরে আনন্দ উপভোগ করাটাই আসল।

Source: Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language