এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ভয়ংকর যুদ্ধে নেমেছে ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরা। সৌদির প্রধান বাণিজ্যপথ বাব-আল মান্দেব প্রণালী-সহ ইয়েমেনের একাধিক অঞ্চল এখন তাদের দখলে। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে অসহায় সৌদিকে বাঁচাতে তৎপর হল পাকিস্তান ও তুরস্ক। যুদ্ধের এতদিন পর প্রথমবার কার্যকর করা হল মক্কা চুক্তি। রিপোর্ট অনুযায়ী সোমবার রিয়াদে এক জরুরি বৈঠকের পর, চুক্তির শর্ত মেনে এই দুই দেশ বন্ধু সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার রিয়াদে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে পাকিস্তানের তরফে ছিলেন, সেনাপ্রধান আসিম মুনির, বিদেশমন্ত্রী ইসাক দার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। বৈঠকে তিন দেশই হাউথির হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি জারি করে। বলা হয়, এই ধরনের হামলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। চুক্তির শর্ত মেনে দুই দেশ সৌদিতে সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির সেনার সঙ্গে যৌথভাবে হাউথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাবাহিনী। যদিও সৌদি আরবে কতজন পাকিস্তানি ও তুর্কি সৈন্য মোতায়েন করা হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এই সৈন্যরা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে, নাকি কেবল সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সীমান্ত রক্ষা করবে, সেটাও স্পষ্ট নয়।
চুক্তির শর্ত মেনে দুই দেশ সৌদিতে সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির সেনার সঙ্গে যৌথভাবে হাউথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে মক্কা চুক্তি সই করেছিল সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো মক্কা চুক্তির মূল বিধান হল কোনও চুক্তির অধীনে থাকা কোনও সদস্যের উপর হামলা হলে বাকি দুই দেশ সেই হামলাকে নিজের উপর হামলা হিসেবে গণ্য করবে। এবং যা পদক্ষেপ করার তা করবে। চুক্তি সই হওয়ার পরই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সৌদিতে হাউথির হামলায় গা বাঁচিয়ে চলছিল বাকি দুই দেশ। বন্ধুকে ফেলে পিঠটান দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পাকিস্তান। সমালোচনার মুখে পড়ে পাকিস্তান অবশেষে সৌদি আরবকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে।
