পর্দায় খলনায়কের চরিত্রে অতিপরিচিত মুখ সাগ্নিক চট্টোপাধ্য়ায়। দর্শকমহলের কাছে তিনি ‘কুখ্যাত ভিলেন’ হলেও সাগ্নিকে (Sagnik Chatterjee) বাস্তবজীবন কিন্তু এক কঠিন সংগ্রামের আস্ত দলিল। পারিবারিক ব্যবসার হাতছানি এড়িয়ে মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখে অভিনয়ে এলেও তাঁর ব্যক্তিগতজীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ডিভোর্সের সময়ে স্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “সন্তানদের মানুষ করতে পারবে না।” তবে জীবনের শত প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়ে একা হাতে দুই সন্তানকে বড় করেছেন সাগ্নিক। আর আজ যখন নেদারল্যান্ডের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন, তখন ‘সিঙ্গল ফাদার’ সাগ্নিকের বুক গর্বে ভরে উঠেছে।
সন্তানদের একা মানুষ করার আবেদন জানালে প্রাক্তন স্ত্রী আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁকে খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সন্তানদের মানুষ করতে পারবেন না। সেই অপমানই ‘টেলিপর্দার খলনায়কে’র জেদে পরিণত হয়। এরপর শুরু হয় সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম। শুটিং-সংসার সামলে দুই সন্তানকে একা মানুষ করা।
মেয়ে সায়নী সাঁতরার এহেন সাফল্য যেন অভিনেতার বহু বছরের অপমান আর কটাক্ষের মোক্ষম জবাব। ২০০৪ সালে ডিভোর্সের পথে হাঁটেন সাগ্নিক। সেসময়ে সন্তানদের একা মানুষ করার আবেদন জানালে প্রাক্তন স্ত্রী আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁকে খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি সন্তানদের মানুষ করতে পারবেন না। সেই অপমানই ‘টেলিপর্দার খলনায়কে’র জেদে পরিণত হয়। এরপর শুরু হয় সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম। শুটিং-সংসার সামলে দুই সন্তানকে একা মানুষ করা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ ২২ বছর এই সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে আনেননি সাগ্নিক। এবার মেয়ে সায়নী নেদারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করতেই আবেগী অভিনেতা। এক দীর্ঘ পোস্টে লড়াকু মেয়ের সাফল্যের সঙ্গে নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন ‘সিঙ্গল ফাদার’ সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়।

মেয়ের শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে অভিনেতা লিখেছেন, “ছোটোবেলায় পাউরুটিকে ‘পাউটুনি’ বলতিস, আরও এরকম অদ্ভুত সব শব্দ বলতিস। কোনও দোকানে যেতে বললে, ভয় পেতিস যে গিয়ে কী বলবি? বাড়িতে, জীবনে, আমার পাশে থেকে তোকেও অনেক লড়াই করতে হয়েছে। সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হতে গিয়েছিলি আমার সঙ্গে। ফিল্ম স্টাডিস নিয়ে পড়বি বলে। ৯২ শতাংশ নম্বর থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে পারিসনি। কারণটা না হয় এখানে নাই বললাম, তাতে তো তোর আর আমার কোনও হাত ছিল না। তবু হাল না ছেড়ে ওখানেই ভর্তি হলি সোশিওলজি নিয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচটাও একইভাবে চালিয়ে গেলি। কোনও কিছুতেই আমার বাধা ছিল না, তাও নিজের লক্ষে সর্বদা অবিচল ছিলিস। এখনও আছিস।
“নানান ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা করে চলে গেলি জার্মানির ব্লুমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্স্টার্স করতে। সেখান থেকে নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল এমএ করতে। তারপর জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সোশিওলজি নিয়ে পিএইচডি করতে।”
মেয়ের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা মনে করলেন সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের সংযোজন, “তারপর নানান ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা করে চলে গেলি জার্মানির ব্লুমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্স্টার্স করতে। সেখান থেকে নেদারল্যান্ডসের টিলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল এমএ করতে। তারপর জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সোশিওলজি নিয়ে পিএইচডি করতে। এই পুরো যাত্রাটা টানা সাত বছরের। এবং একা। গতকাল ছিল তোর ডিসার্টেশন। কত জুড়িদের কত প্রশ্ন তোর লেখা থেসিস ‘A FRAGILE ACHIEVEMENT’ নিয়ে। যেতে তো পারলাম না ওই মহাশুভ মুহূর্তে তোর পাশে থাকতে। কারণ ভিসা পেলাম না। বাড়িতে বসে লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে দেখতে একটু ভয়ও পাচ্ছিলাম, এতোজনের এতো প্রশ্ন শুনে। কিন্তু তোর আত্মবিশ্বাস দেখে আমি সাহস পাচ্ছিলাম। তারপর এল সেই মহাক্ষণ, যেটার জন্য তোর এতো লড়াই, এতো পড়াশোনা। এখন তুই ডক্টর লায়নী সাঁতরা। বাবা হয়ে তোকে কুর্নিশ জানাই নেহা।”
