কারও সঙ্গে লিভ ইনে থাকা মানেই তাঁকে বিয়ে করার বাধ্যবাধকতা থাকে না। সম্পর্ক ভাঙার পর কেউ আত্মহত্যা করলে সেটার দায়ও চাপানো যায় না সঙ্গীর উপর। সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বলছে, পরিস্থিতি বদলালে সম্পর্ক ভাঙতেই পারে। তবে সেটাকেই কাউকে আত্মহত্যার প্ররোচনা হিসাবে ধরা যায় না।
মূল ঘটনা বছর চারেক আগের। লিভ ইন সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আত্মহত্যা করেন তেলেঙ্গানার এক তরুণী। ওই ঘটনার তরুণীর প্রাক্তন সঙ্গীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ লিভ ইন সঙ্গী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। চার বছর ধরে মামলা চলার পর সেই মামলা খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ জানাচ্ছে, কোনও সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই সেটা আত্মহত্যার প্ররোচনা বা কারও আত্মহত্যার একমাত্র কারণ হিসাবে ধরা যায় না। সম্পর্ক ভাঙার পর কেউ আত্মহত্যা করছেন মানেই সঙ্গী আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন এটা বলা যায় না। এর জন্য জন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে প্ররোচনার ‘প্রমাণ’ থাকতে হবে। বা সম্পর্ক ভেঙে গেলে সঙ্গী যে চরম পদক্ষেপ করতে পারে, সেটা সে বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে সঙ্গীর। শুধু অভিযোগকারীর বয়ান এক্ষেত্রে প্ররোচনা প্রমাণে যথেষ্ট নয়। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়। ফলে সম্পর্কও ভাঙতে পারে।”
জানা গিয়েছে, এক্ষেত্রে মৃত যুবতী এবং অভিযুক্ত ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরা লিভ ইনে থাকতে শুরু করেন। ওই যুবক নিজের প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তরুণী রাজি ছিলেন, তাঁর পরিবারও রাজি ছিল। কিন্তু বেঁকে বসে যুবকের পরিবার। শেষমেশ ওই যুবক বিয়ে ভেঙে দেন। বিয়ে ভাঙার শোকেই চরম সিদ্ধান্ত নেন যুবতী। ওই যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। তবে সেই মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
