দুষ্কৃতীদের নিশানায় বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টির অভিযোগ। যার জেরে ভেঙে যায় বাড়ির একের পর এক জানলার কাঁচ। এমনকী বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ প্রাক্তন সাংসদের। শুধু হামলা নয়, হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ সিপিএম নেতার। সাতসকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে যাদবপুর থানার পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক যোগ আছে না কি অন্য কোনও ঘটনার জেরেই এই ঘটনা, তা স্পষ্ট নয়।
ইএম বাইপাস সংলগ্ন পূর্বালোক এলাকায় বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি। অভিযোগ, সকালে বাইকে করে বেশ কয়েকজন যুবক আসে। তাঁদের মুখ ঢাকা ছিল বলে অভিযোগ বামনেতার। শুধু তাই নয়, নম্বর প্লেটও কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল বলে দাবি। ফলে কাউকে চেনা সম্ভব হয়নি। সিপিএম নেতা বলেন, হঠাৎ করে বাড়ি লক্ষ্য করে একের পর এক ইট ছুড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির জানলার কাঁচও। তাঁর অভিযোগ, একেবারে পরিকল্পনা করে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাঁকে যে ভয় দেখানো যাবে না বলে মন্তব্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের।
তিনি বলেন, ”খুব পরিকল্পিত আক্রমণ এটা। এরা যদি সন্ত্রাসী না হয় তবে কারা? ওই সন্ত্রাসীরা জেনে রাখুক, আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। এবার আমি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেব। সবাই যাতে সাবধানে হয়ে যায়।” বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে পালাবদলের পর বামেদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। গত কয়েকদিনে একাধিক জায়গায় বামেদের পার্টি অফিস লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকী বামেদের সভাতেও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, গত জুন মাসে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ির সামনে ‘পর্ক উৎসবে’র আয়োজন করেছিলেন হিন্দুত্ববাদীরা। একের পর এক ভিডিও ছবি তার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বছর দশেক আগে ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে গোমাংস খেয়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। উদ্দেশ্য ছিল, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া। তার পালটা এহেন কর্মসূচির নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও বিবেকানন্দকে স্মরণ করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, নিজের অবস্থানে তিনি অনড়।
