লক্ষ্মীপুজোর দিনই তাঁর সফর শেষ হয়েছে। ‘বিগ বস’-এর বাড়িতে প্রায় মাস দুয়েক কাটিয়ে সম্প্রতি শহরে ফিরেছেন ভরত কল। এবারের দুর্গাপুজো একটু অন্যরকম ছিল অভিনেতার। পরিবার ছেড়ে মুম্বইয়ে ‘বিগ বস’-এর বাড়িতেই কাটাতে হয়েছে। মিস করেছেন পরিবারকে। তবে খারাপ লাগা থাকলেও সহ-প্রতিযোগীদের কথা ভেবে নিজের কষ্ট লাঘব করেছেন ভরত। তিনি বললেন, ‘আমার মেয়ে আরিয়া, স্ত্রী জয়শ্রীর জন্য মন খারাপ করছিল। কিন্তু আমি তখন দুর্নিবারের কথা ভেবেছি। ওর একটা ছোট্ট ছেলে রয়েছে। ও যখন তাকে ছেড়ে অত দূরে থাকতে পেরেছে, আমি কেন পারব না! আমরা যারা যারা ওখানে ছিলাম সবাই আমাদের পরিবার ছাড়াই পুজো কাটিয়েছি। পুজোর মধ্যে আমাদের বিভিন্ন গেম থাকায় গল্পে, গানে, মজায়, আড্ডায় আমাদের সময়টা কেটে গিয়েছে।’
“তনুশ্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটে গিয়েছে। ওর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। ও আমার জন্য রান্না করে দিত। আমি ঝাল খেতে পারতাম না বলে আমার জন্য ঝাল ছাড়া খাবারও তুলে রেখেছে।”
স্টার জলসার ‘বিগ বস’-এর সফর ভরতের জীবনের অভিজ্ঞতায় যুক্ত করেছে অনেক নতুন অধ্যায়। তবে ‘বিগ বসে’র বাড়ির শুধু ভালো মুহূর্তগুলোই পাথেয় করতে চান ভরত। যে মন কষাকষি, খারাপ লাগা তৈরি হয়েছিল সবটাই গেমের অঙ্গ বলে তাঁর বিশ্বাস। ভরতের সাফ জবাব, ‘ওখানে যা হয়েছে সবটাই গেমের অংশ। আমি ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে কোনও খারাপ জিনিস বয়ে বেড়াব না। মনামী, সৃজলা, নন্দিনী, জীতুর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক।’ প্রথম সপ্তাহেই ক্যাপ্টেন ছিলেন ভরত। সেই সপ্তাহে তনুশ্রীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ তুমুল চর্চায় ছিল। সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে অবশ্য ভরত আক্ষেপ মিটিয়ে নিয়েছেন। ভরতের কথায়, ‘তনুশ্রীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটে গিয়েছে। ওর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। ও আমার জন্য রান্না করে দিত। আমি ঝাল খেতে পারতাম না বলে আমার জন্য ঝাল ছাড়া খাবারও তুলে রেখেছে।’

“এই দু’মাস মোবাইল ছাড়া থাকার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। সেটা যদি সত্যিই আবার প্র্যাকটিস করতে পারতাম খুব ভালো হত। যেটা অনেকদিন ধরে অপু (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) করেছে।…”
বেরিয়ে যাওয়ার পর বিগ বসের বাড়িটা মিস করছেন ভরত। তবে পরিবারের কাছে ফেরাও তাঁর কাছে অন্যরকম অনুভূতি। ভরত বললেন, “জয়শ্রীর জন্যই আমার ‘বিগ বস’-এ যাওয়া। যাদবপুরের বিভিন্ন এলাকায়, রেল স্টেশনে গিয়ে আমার জন্য ভোট প্রার্থনা করেছে জয়শ্রী।” ‘বিগ বস’-এর বাড়ি থেকে কী শিখে এলেন? ভারতের উপলব্ধি, ‘সব থেকে বড় জিনিস যেটা বুঝলাম, এই দু’মাস মোবাইল ছাড়া থাকার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। সেটা যদি সত্যিই আবার প্র্যাকটিস করতে পারতাম খুব ভালো হত। যেটা অনেকদিন ধরে অপু (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়) করেছে। যদি সম্ভব হয় তা হলে আবারও চেষ্টা করব।’ ‘বিগ বস’-এর বাড়ি তাঁকে শিখিয়েছে সময়ের মূল্য, ডিসিপ্লিন, দায়িত্ববোধ। বাড়িতে কখনওই নিজের খাবার বানানো বা বাসন ধোয়ার মতো কাজ করতে হয়নি। কিন্তু বিগ বসের বাড়িতে লাক্সারি বাজেট গেমে পয়েন্ট অর্জন করে তবেই পরবর্তী খাবার পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ঘড়ি ধরে কাজ, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, সবার সঙ্গে মানিয়ে চলাটাও শিখেছেন তিনি।
“আমরা সারাদিন অভিনয় করলে বাইশ পাতা স্ক্রিপ্ট পড়তে পারি। তাই বলে সারাদিন স্ক্রিপ্টেড কথা বলা অসম্ভব।”

দু’মাসে আট কেজি ওজনও ঝরেছে ভরত কলের। এটাকে ইতিবাচক দিক হিসাবেই দেখছেন ভরত। এখন জমে উঠেছে ‘বিগ বস’-এর খেলা। প্রথমার্ধ শেষে দ্বিতীয়ার্ধের টানটান উত্তেজনা চলছে। যত দিন এগোচ্ছে ফিনালে এগিয়ে আসছে। কাকে চ্যাম্পিয়ন দেখতে চান? উত্তরে তিনি বললেন, ‘দুর্নিবার, জীতু, মনামী, রাজবীর, সোনামণি অনেকেই যোগ্য দাবিদার। দারুণ খেলছে। প্রথমদিকে নিজেকে অতটা ওপেন করেনি তবে সোনামণিও এখন খুব ধরে খেলছে।’ সব থেকে বড় প্রশ্ন চারদিকে আদৌ কি স্ক্রিপটেড এই শো? এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ভরত বললেন, ‘আমরা সারাদিন অভিনয় করলে বাইশ পাতা স্ক্রিপ্ট পড়তে পারি। তাই বলে সারাদিন স্ক্রিপ্টেড কথা বলা অসম্ভব।’ বাড়ি ফিরে এখন দিন কয়েকের বিশ্রাম, আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা। তারপর আবার কাজে ফিরবেন ভরত।
