আগামী ৩০ অক্টোবর বাতিল করা হল জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের কনসার্ট। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে দিল্লি পুলিশ এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। এই অনুষ্ঠান পরবর্তীতে আর অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়েও একটা সংশয় তৈরি হয়েছে। কনসার্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে আয়োজকদের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন দিলজিতের অনুরাগীরা। জানা যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ জেলার ডেপুটি কমিশনারের দপ্তর থেকে বুক মাই শোকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অনুমতির আবেদন পর্যালোচনা করার পর তা নাকচ করে দিয়েছে বলেই খবর। হুমকি সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্বের প্রসঙ্গটিও চিঠিতে উত্থাপন করা হয়েছে। যদিও সেগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। পুলিশের অনুমতি না মেলায় অনুষ্ঠানটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দানা বাঁধছে প্রশ্ন। যাঁরা ইতিমধ্যেই কনসার্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
গত রবিবার আচমকা টাইগার শ্রফের উপর বন্দুকবাজদের হামলার কারণেই তারকা নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা নাকি সিজেপি ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজধানীতে দিলজিতের অনুষ্ঠানের আয়োজনের সাহস দেখাতে পারল না দিল্লি পুলিশ? কয়েকটা দিন পিছনে ফিরে তাকালে মনে পড়ে যায়, যন্তর মন্তরে ‘জেন জিদের আন্দোলনের সময় দিলজিৎ বলেছিলেন, “যন্তর মন্তর কি প্রতিবাদের জায়গা? ভাই, আমাকে এসব বিক্ষোভ থেকে দূরেই রাখো। আমি একজন শিল্পী, নেতা নই। সব তো একজীবনে ঠিকঠাক হয় না।”
এই মন্তব্যের পর চরম কটাক্ষের স্বীকার হতেই পরবর্তীতে পাঞ্জাবি পপস্টারের ভোল বদল, “যেটা ঘটেছে তা অত্যন্ত অন্যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা মোটেই উচিত হয়নি। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াগুলি শোনে। কারণ জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।” কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে দিলজিতের সংযোজন, “আমাকে আগেও একাধিকবার ‘দেশদ্রোহী’ বলা হয়েছে। এবারও আমাকে সেটাই বলা হবে।”

দিন কয়েক আদে দিলজিৎ অভিনীত ‘সতলুজ’ নিয়েও তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই ছবিতে প্রয়াত সমাজকর্মী যশবন্ত সিং খালরার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন দিলজিৎ। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ দাহ করার ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন এই যশবন্ত। অভিযোগ, জঙ্গি কার্যকলাপ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে এই সিনেমা। সবদিক বিচার বিবেচনা করেই সম্ভবত দিল্লিতে দিলজিতের কনসার্টের অনুমতি দিল না দিল্লি পুলিশ।

নিরাপত্তাজনিত কারণেই দিল্লি পুলিশ এই সিদ্ধান্ত নিলেও পুনর্বিবেচনার জন্য আয়োজকেরা আবেদন করেছেন কি না বা অন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে? অনুষ্ঠানের জন্য পরবর্তীতে অন্য় কোনও দিন বা ভেন্যু নির্ধারিত করা হবে? যাঁরা ইতিমধ্যেই টিকিট কেটে ফেলেছেন তাঁদের মনে আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছে এধরনের নানান প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তাহলে বিশ বাঁও জলে দিলজিতের দিল্লির কনসার্ট? আয়োজকদের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত দিলজিৎ ভক্তদের কাছে আর কোনও উপায় নেই।
