সিপিএমের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়। বিরাটির সভায় হামলা হয়েছিল দিন কয়েক আগে। দত্তপুকুরের একাধিক সিপিএম কার্যালয়ও ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ। সেই আবহে এবার পুজোয় স্টল তৈরি করা নিয়ে সিপিএম ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তীব্র বিবাদ দেখা গেল! দু’পক্ষের বচসা, মারামারিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বনগাঁয়। পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে ঘটনায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, বনগাঁ শহরে যশোর রোডের পাশে সিপিএমের পার্টি অফিস রয়েছে। সেই কার্যালয়ের সামনে প্রায় ৬০ বছর ধরে পুজো উপলক্ষে পত্রিকা স্টল করে আসছে সিপিএম৷ মঙ্গলবার সকালে সিপিএম ওখানে স্টল করার তোরজোর শুরু করেছিল। অভিযোগ, ওইসময় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লোকজন এসে তাদের কাজে বাধা দেয়। সিপিএমের লোকজন প্রতিবাদ করলে শুরু হয় উত্তেজনা। অভিযোগ, সিপিএমের লোকজনদের মারধর করা হয়। স্টল বানানোর জিনিসপত্র ফেলে দেওয়া হয়। ওই স্টল বানাতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ওই স্থানে বাঁশ বেঁধে নিজেদের স্টল তৈরির কাজ শুরু করে। দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বনগাঁ শাখার সংযোজক কিংকর মণ্ডল বলেন, “ওরা হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে৷ ওদের অফিসে আমাদের দেশের কোনও ঋষির ছবি নেই। ওরা ওখানে স্টল করত কিনা জানা নেই। আমরা দুর্গাপুজো উপলক্ষে হিন্দু সনাতনীদের জন্য করছি। ওরা বাধা দিয়েছিল। কিন্তু কাউকে কোনও মারধর করা হয়নি৷”
সিপিএম নেতা সুমিত কর পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সিপিএম নেতার অভিযোগ, “আমরা ৬৩ বছর ধরে ওখানে স্টল করে আসছি। হঠাৎ বেশ কিছু লোকজন এসে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পরিচয় দিয়ে চড়াও হয়। মারধর ও গালিগালাজ করে। আমাদের স্টল বানানো বন্ধ করে দেয়। পুলিশের সামনেই ওরা নতুন করে স্টল তৈরি করছে। পুলিশ আমাদের সময় দিয়েছে। আমরা অপেক্ষা করব৷ এরপর আন্দোলনে নামব।”
