পাঁচ মাস বন্ধ ছিল হাওড়ার শিশু হাসপাতাল। বিজেপির বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিংয়ের নেতৃত্বে ওই শিশু হাসপাতালের তালা খোলা হল। অভিযোগ সিপিএমের মদতপুষ্ট কিছু কর্মীর জন্য প্রায় ৫ মাস আগে হাওড়া ময়দানে রেড ক্রশ সোসাইটির অধীনস্থ শিশু হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সকালে বিধায়ক সঞ্জয় সিং নিজে গিয়ে ওই শিশু হাসপাতালের তালা খোলেন। সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক তথা এই হাসপাতাল তৈরির মূল উদ্যোক্তা শিশু চিকিৎসক সুজয় চক্রবর্তী। এই প্রসঙ্গে বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং বললেন, ‘‘এই হাসপাতালটা বিগত পাঁচ মাস বন্ধ ছিল। আমরা জেলাশাসককে বলেছিলাম। সকলে মিলে এটাকে আবার আমরা চালু করব।”
এই হাসপাতাল বন্ধ থাকার পাশাপাশি হাসপাতালের অনেককর্মী বেতন পাননি। সেই বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন মোটানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “৩ থেকে ৪ মাস হাসপাতালের অনেক কর্মী বেতন পাননি। সেটাও জেলাশাসককে বলেছি বিষয়টি দেখতে। ডাক্তারবাবুরা যাঁদের মাধ্যমে একতলা বিল্ডিং দোতলা হয়েছে তাঁদেরকে ডেকেছি। সকলের উদ্যোগে এটাকে আবার আমরা চালু করব। শিশুদের একটা হাসপাতাল হাওড়ায় এতদিন যে বন্ধ ছিল সেটার জন্য আমরা সকলেই নিজেদেরকে দোষী বলব। এবার এই হাসপাতালটাকে আমরা একসঙ্গে চালাব।”
প্রসঙ্গত, কয়েকবছর আগে ২০২১ সালে রেড ক্রশ সোসাইটি রাজ্য সরকারের থেকে জমি লিজ নিয়ে হাওড়া ময়দানের বঙ্গবাসী বাসস্ট্যান্ডের কাছে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এই শিশু হাসপাতালটি তৈরি করে। সেই সময় এই শিশু হাসপাতালটি তৈরির মূল উদ্যোগ নিয়েছিলেন শিশু চিকিৎসক তথা হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক সুজয় চক্রবর্তী। চিকিৎসক সুজয় চক্রবর্তীই অভিযোগ তুললেন, সিপিএমের মদতে হাসপাতালের ভিতরে কিছু কর্মী নিজেদের মধ্যে অশান্তি করে হাসপাতালটিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। পাঁচ মাস বাদে অবশেষে শিশু হাসপাতালের তালা খোলা হল। এই শিশু হাসপাতালের তালা খুলে হাসপাতালটিকে আবার কীভাবে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া যায় ও এর পরিকাঠামোগত আরও উন্নতি ঘটানো যায় তা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে হাওড়া পুরসভায় বৈঠক করেন বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং ও শিশু চিকিৎসক সুজয় চক্রবর্তী।
