হনুমান চালিশা পাঠ নিয়ে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরে প্রতিবাদে সিপিএম পার্টি অফিসের সামনেই হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করা হল। ক্ষমা না চাইলে ‘ওষুধের’ দাওয়াই দেওয়া হল বজরং দলের পক্ষ থেকে। ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিকভাবে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বাঁকুড়া সদর এলাকায়।
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরে এক সভায় বাম নেতা স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রেখেছিলেন। সেখানেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “হনুমান চালিশা পড়ে হনুমানরা। আমরা হনুমানও নই, হনুমানের দলও করি না। আমরা মার্কসবাদ পড়ি, লেনিনবাদ পড়ি এবং গান্ধীবাদ পড়ি।” সেই ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। প্রতিবাদে নামে বজরং দল। সংগঠনের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনা করা হলেও ধর্মীয় বিশ্বাসকে কটাক্ষ করা মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়া জেলা সিপিএম কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন বজরং দলের কর্মীরা। হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়। বজরং দলের পক্ষ থেকে বাপ্পা দাস বলেন, “এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে আমরা আমাদের মতো করে ‘ওষুধ’ ঠিক করে রেখেছি।” বাপ্পার এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ‘ওষুধ’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট না করলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ ওই বক্তব্যকে হুমকি হিসেবে দেখছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে এ ধরনের ভাষা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
তবে বজরং দলের দাবি, তাঁদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। কোনও হিংসাত্মক কর্মসূচির কথা তাঁরা ঘোষণা করেননি বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাপ্পা দাসের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে।”