অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের হাতে অপহৃত ভারতীয় যুবককে দেশে ফেরাল বিএফএস। শনিবার সকালে কাঁটাতারের ওপারে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশী দুষ্কৃতীদের হাতে অপহৃত হন কাজল ঘোষ নামে এক ভারতীয় যুবক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানার আয়াদাঙ্গা ও নাসিরেরপাড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়। যদিও শনিবার গভীর রাতেই ওই যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন বিএসএফ আধিকারিকরা। জানা যায়, ঘটনার পরেই বিএসএফের ১৪৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করেন। এরপরেই ওই যুবককে উদ্ধার করা হয় সীমান্তের ওপার থেকে।
ঘটনার খবর পেয়ে নাসিরেরপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান ও স্থানীয় থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে শনিবার রাত প্রায় বারোটা নাগাদ বিএসএফের জোরালো পদক্ষেপে কাজল ঘোষকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে। জানা যায়, হোগলবেড়িয়া থানার আয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১৫২/১০-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় চোরাকারবারী আটকাতে গিয়ে গুলি চালায় বিএসএফ। এতে বাংলাদেশের দৌলতপুরের সাহাজুল নামে এক ব্যক্তি আহত হয় এবং বিজিবির বিরুদ্ধে পাল্টা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন অর্থাৎ শনিবার বেলা দশটা নাগাদ ভারতীয় কৃষকরা কাঁটাতারের ওপারে কাজ করতে গেলে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। ওই দুষ্কৃতীরা বিদ্বান বিশ্বাস নামে এক ভারতীয় চাষীকে মারধর করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখম করে বলে অভিযোগ। অন্য কৃষকরা গুরুতর অবস্থায় ওই কৃষককে উদ্ধার করে বিএসএফের অ্যাম্বুলেন্সে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার সময়ই কাজল ঘোষ নামে অপর এক চাষীকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। তাকে বিজিবির ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল বলে খবর।
ঘটনার খবর পেয়ে নাসিরেরপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান ও স্থানীয় থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে শনিবার রাত প্রায় বারোটা নাগাদ বিএসএফের জোরালো পদক্ষেপে কাজল ঘোষকে উদ্ধার করা হয়। রাতে পুলিশ ও বিএসএফের উপস্থিতিতে তাকে সুস্থ শরীরে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তে বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি কর্মবিরতিও শুরু করে দেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান করিমপুরের বিধায়ক। কৃষকদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে।
