তিনি দেশের প্রথম সারির আইনজীবী। গত ১২ বছর ধরে দেশে হেন কোনও বড় রাজনৈতিক মামলা নেই, যাতে কোনও না কোনও ভাবে কপিল সিব্বল যুক্ত ছিলেন না। বিরোধী শিবিরের যে কোনও মামলা, যে কোনও আইনি জট, সবেতেই আইনজীবী হিসাবে দেখা যায় তাঁকে। সেই কপিল সিব্বলই কিনা এবার দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। তিনি বলে দিচ্ছেন, ‘বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গিয়ে আমি ক্লান্ত। জানি না আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা।’
আসলে শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ দমন করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ করে দিল্লি পুলিশ। কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয় রাজধানী। তারই প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সিব্বল। প্রশ্ন তোলেন, “কেউ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাতে চান, তাহলে তাতে কার কী সমস্যা হতে পারে?” যেভাবে ককরোচ নেতাদের দমন করা হয় সেটার আইনি ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলেন সিব্বল।
সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ তিনি চাইছেন কিনা। সে প্রশ্নের জবাবে হতাশার সুর শোনা যায় প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার কথায়। সিব্বল বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গিয়ে ক্লান্ত। জানি না আদৌ কোনও লাভ হবে কিনা।” আসলে এসআইআর এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে অজস্র মামলা করেন কপিল সিব্বল। মূল বক্তব্য ছিল, এসআইআর বাতিল করতে হবে। কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাতে কর্ণপাত করেনি শীর্ষ আদালত। সম্ভবত তাতেই হতাশ সিব্বল। যদিও পরক্ষণেই তিনি সাফাইয়ের সুরে বলেছেন, “এই বক্তব্য তাঁর নিজস্ব মতামত।”
কপিল সিব্বল কি সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করছেন? তাঁর ভূমিকায় কি অখুশি? কপিল সিব্বল বলছেন, “প্রশ্নটা আমার ব্যক্তিগত সন্তোষ বা অসন্তোষের নয়। আমরা আইনজীবী। আমাদের লড়াইটা মানুষের জন্য।”
