বিয়ের পর থেকে কর্মসূত্রে বিদেশে স্বামী। তাঁর সঙ্গে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথা বলতেন স্ত্রী। বুধবার রাতেও তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছিল। কিন্তু তারপরই ঘটে গেল অঘটন। মাঝরাতে নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হল গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি খুনের পর দেহ ওভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, তা বুঝতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনা ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার নাটাবেড়িয়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ১৯ বছরের তরুণীর পরিবার শ্বশুরবাড়িকে দায়ী করছে। তদন্তে নেমেছে বাগদা থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, মৃতার নাম সামিয়া মণ্ডল, বয়স ১৯ বছর| মাস চারেক আগে রানাঘাটের কুটিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল দফাদারের সঙ্গে বাগদা থানার নাটাবেড়িয়ার বাসিন্দা সামিয়ার দেখেশুনে বিয়ে হয়। কিন্তু সামিয়ার পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকেই মনিরুল ও তার পরিবারের লোকজন তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার চালাত। মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চলত। এরপর মনিরুল বিদেশে কাজের জন্য চলে যায়। আর তিনি চলে যাওয়ার পর থেকে সামিয়ার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকী এই অভিযোগও উঠেছে, মনিরুলও বিদেশ থেকে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ে এমন কিছু বলতেন, যাতে সামিয়ার উপর মানসিক চাপ তৈরি হতো।
দিন কয়েক আগে সামিয়া এই অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে বাপের বাড়িতে যোগাযোগ করে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তারপর থেকে সামিয়া বাপের বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার রাতে মনিরুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে কথা হয় তাঁর। এরপর মাঝরাতেই তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকদের অত্যাচারের কারণে তাঁদের মেয়ে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চেয়ে পরিবার বাগদা থানাতে অভিযোগ দায়ের করেছে।
