গতবছর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। এই তো, কদিন আগেও একসঙ্গে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছেন। কিন্তু দু’জনের মধ্যে নাকি সম্পর্ক বেশ খারাপ। এমনকী একে-অপরের সঙ্গে চোখাচোখি পর্যন্ত করছেন না। কথা হচ্ছে হরমনপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মন্ধানাকে নিয়ে। প্রথমজন সদ্য দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। তারপরই আরেকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, দুই সতীর্থের মধ্যে আদৌ সদ্ভাব আছে তো?
২১১টি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেন ৩৭ বছর বয়সি ক্রিকেটার। গতবছর ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছেন। অধিনায়কত্ব ছাড়লেও এখনও খেলা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু এশিয়াডে সোনা জেতার পরপরই কেন নেতৃত্ব ছাড়লেন? নেপথ্যে অনেকগুলো কারণ উঠে আসছে। বোর্ড সূত্র বলছে, হরমনকে টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক হিসাবে রাখলেও টি-২০ থেকে তাঁকে সরাতে চেয়েছিল বোর্ড। সেই প্রস্তাব যেতেই ক্ষুব্ধ ভারত অধিনায়ক একসঙ্গে ৩ ফরম্যাটের অধিনায়কত্বই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১২ ঘণ্টা কাটার আগেই নতুন অধিনায়ক হিসাবে স্মৃতি মন্ধানার নাম ঘোষণা করে দেয় বোর্ড।
স্মৃতি কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরেই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছেন। যা বোর্ডের উপর চাপ বাড়ানোর কাজ করেছে। এই নেতৃত্ব নিয়েই হরমনপ্রীত-স্মৃতির বিবাদের সূত্রপাত বলে খবর। দলের এক সূত্র জানিয়েছেন, ‘ওরা একে-অপরের সঙ্গে চোখও মেলাত না। ফলে দলের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
তাছাড়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাফল্য এনে দিলেও টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। হরমনপ্রীতের ফর্মও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। সম্প্রতি গুয়াহাটিতে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়ার উপস্থিতিতে আলোচনায় হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব থেকে বিদায়ে কার্যত শিলমোহর পড়ে যায়। হরমনপ্রীত অবশ্য ছাঁটাইয়ের জন্য অপেক্ষা করেননি। তিনি নিজেই সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। হরমনপ্রীত আরও হয়তো বছর দুয়েক খেলবেন। কিন্তু দলের মধ্যে যদি ‘বিভেদ’ থাকে, তাহলে কি পারফরম্যান্স ভালো হবে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
