এক সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় কোচবিহারের স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন এক শিক্ষক। অভিযোগ, ম্যাডামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে স্কুলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এই অভিযোগেই বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রছাত্রীরা। ওই শিক্ষকের স্কুটি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে সরব পড়ুয়ারা। প্রশ্ন উঠছে, প্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষকের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে নাবালক ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাল? কোচবিহারের স্কুলের কাণ্ডে বিতর্ক।
কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম হাইস্কুলের বাংলা শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন। অভিযোগ, ওই স্কুলেরই এক অশিক্ষক কর্মীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই খবর জানাজানি হওয়ার পর স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যায় ওই শিক্ষক ও তাঁর সহকর্মী মহিলার। দু’সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার স্কুলে আসতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে সরানোর দাবিতে সরব হয় তারা। বৃহস্পতিবার দিনভর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত হুলুস্থুল বেধে যায় স্কুলে। পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকের স্কুটি ভাঙচুরও চলে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশ। স্কুলচত্বর থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষক নিজে। তাঁর কথায়, “সব ভিত্তিহীন অভিযোগ।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রাপ্ত বয়স্ক একজন শিক্ষক, তিনি কার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার এক্তিয়ার আদৌ আছে ছাত্রছাত্রীদের? যদিও প্রেমের সম্পর্ক থাকেও, তা নিয়ে স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া বাঞ্চনীয় নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠছে। যারা ওই শিক্ষকের স্কুটিতে হামলা চালিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলছে একাংশ।
