দশমীতে সিঁদুর পরে উমাবরণ করতে গিয়েছিলেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, নিয়মমাফিক সিঁদুরও খেলেছেন। সেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসতেই তাঁর সিঁদুরে রাঙানো সিঁথি নিয়ে নেটভুবনজুড়ে চর্চার অন্ত নেই। যদিও সিঁদুর পরার কারণ নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন অনিন্দিতা, তবুও একাংশের প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সুখের ঘরকন্না থাকা সত্ত্বেও তিনি কি আজও স্বামীর ফেরার অপেক্ষায়? কেউ কেউ আবার তাঁকে ‘প্রথমা স্ত্রী’ বলেও সম্বোধন করেছেন। আর তাতেই চটেছেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, সংবিধান অনুযায়ী হিন্দুদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হলেও সেটা নিয়ে এত মাতামাতি কেন?
হিরণ চট্টোপাধ্য়ায়ের দ্বিতীয় বিবাহ অভিযান নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও আইনত বিচ্ছেদের পথে হাঁটার আগেই বেনারসে গিয়ে রিতিকা গিরিকে বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই আনন্দপুর থানায় হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নেতা-অভিনেতার প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা রুজু হয়। যে মামলা এখনও বিচারাধীন। এরমাঝেই দশমীতে সিঁদুর পরে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। আইনত এখনও হিরণের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে বারবার ‘প্রথম স্ত্রী’ বলে সম্বোধন করা হচ্ছে তাঁকে? তাতেই আপত্তি তুলেছেন তিনি।
“হিন্দু কোড বিল বা হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে এক স্ত্রী/এক পতি থাকবে- দ্বিতীয়-তৃতীয় আবার কি? বহুবিবাহ নিষিদ্ধ এই দেশে হিন্দুদের জন্য।…”
ফেসবুক পোস্টে অনিন্দিতার মন্তব্য়, “আপনারা বহুবিবাহ বা বহুপত্নীত্ব (বহু পতিত্ব-ও কি?) নিয়ে খুবই উৎসাহিত এবং উৎফুল্ল! মানবিকতা নৈতিকতার কথা ছেড়েই দিলাম, দেশের আইন অনুযায়ী করা যায় কি? যদি তাই করেন তাহলে দেশের আইন ও সংবিধান অমান্য ও লঙ্ঘন করা হল কি না? হিন্দু কোড বিল বা হিন্দু বিবাহ আইন অনুসারে এক স্ত্রী/এক পতি থাকবে- দ্বিতীয়-তৃতীয় আবার কি? বহুবিবাহ নিষিদ্ধ এই দেশে হিন্দুদের জন্য। সেই নিষিদ্ধের হয়ে যারা সওয়াল করে তারাও আইনকানুন অমান্য করছে। সেটা করা যায় না।”
সম্প্রতি দশমীতে সিঁদুর পরার কারণ হিসেবে অনিন্দিতা জানিয়েছিলেন, “আমার কাছে সিঁদুর মানে শুধু দাম্পত্য পরিচয় নয়। লাল রং মানে শক্তি। যা মনোবল বাড়ায়। দশমীর দিনে সিঁদুরখেলার একটা অন্য মাহাত্ম্য রয়েছে। একে অপরের গালে সিঁদুর ছোঁয়ালে যেন বলা হয়, পাশে আছি।” তাঁর সিঁদুরখেলা নিয়ে এত চর্চাতেও বেজায় বিরক্ত অনিন্দিতা। যদিও এসবকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।