মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা ডেডলাইন শেষ। তারপরও নিজের পোস্ট সংশোধন করলেন না প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সাফ জানিয়ে দিলেন, নিজের বাড়িতে হামলার পিছনে ‘হিন্দুত্ববাদী’রাই জড়িত, তা প্রমাণিত। তাই শব্দটি তিনি প্রত্যাহার করবেন না। এছাড়া হিন্দুত্ববাদীদের দায়ী করার অর্থ হিন্দু ধর্মের অপমান নয় বলেও মনে করেন তিনি। তাই এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁর পালটা প্রশ্ন, “আপনাকে এই অধিকার কে দিয়েছে? আগে অধিকারের পক্ষে যুক্তি হাজির করুন।” আর এতেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার প্রবীণ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে কি বড় কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
এক টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি কেন পোস্ট থেকে ওই শব্দটা ডিলিট করব? অপরাধ করেছে ওরা। হিন্দুত্ববাদ প্রকৃতপক্ষে একধরনের গুন্ডামির তত্ত্ব। আর হিন্দুত্ব বহুত্ববাদ, সকলকে গ্রহণের তত্ত্ব। ওরা প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মেরই বিরোধী।হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ব দু’টি পরস্পর বিরোধী জিনিস। হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করছে হিন্দুত্ববাদ। যাঁরা যথার্থ হিন্দু তাঁদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যাদবপুরের বাড়িতে হামলা চালায় জনা কয়েক দুষ্কৃতী। মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় কাচের বোতল, পাথর ছুড়ে বাড়ির জানলা ভাঙা হয় বলে অভিযোগ। এই কাজ হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের বলে অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বিকাশরঞ্জনবাবু। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে ২ জন গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের দাবি, তারা তৃণমূলের দুষ্কৃতী। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিকাশবাবুর ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ নিয়ে আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একটি জনসভা থেকে তিনি কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে জানান যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শব্দটি ফেসবুক পোস্ট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে বিকাশরঞ্জনবাবুকে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া সেই ডেডলাইন শেষ হয়েছে আজ, রবিবার। কিন্তু বিকাশবাবু নিজের পোস্ট থেকে হিন্দুত্ববাদী শব্দটি মুছে ফেলেননি। এক টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি কেন পোস্ট থেকে ওই শব্দটা ডিলিট করব? অপরাধ করেছে ওরা। হিন্দুত্ববাদ প্রকৃতপক্ষে একধরনের গুন্ডামির তত্ত্ব। আর হিন্দুত্ব বহুত্ববাদ, সকলকে গ্রহণের তত্ত্ব। ওরা প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মেরই বিরোধী।হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুত্ব দু’টি পরস্পর বিরোধী জিনিস। হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করছে হিন্দুত্ববাদ। যাঁরা যথার্থ হিন্দু তাঁদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদের সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
