দশ বছর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলাকে পুরসভা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। তাতে শিলমোহর দিয়োছিলেন রাজ্যপালও। কিন্তু রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, রাজ্যপালের সম্মতির পরেও কোন অজ্ঞাত কারণে গঠিত হয়নি পুরসভা? প্রশ্ন তুলে মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। এনিয়ে মামলা দায়ের করেছেন আমতলার বাসিন্দা দেবাশিস দে। চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহেতার এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন (এসএলপি) দায়ের করে আবেদনকারীর দাবি, আমতলা এলাকায় পুরসভা গঠনের প্রস্তাব ২০০৭ সাল থেকেই আলোচনায় ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। আবেদনকারীর বক্তব্য, ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়ে রাজ্যপালের সচিবালয়ের সম্মতিও পাওয়া গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি এবং পুরসভা গঠনের প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে ২০২৪ সালে রিভিউ আবেদনও দাখিল করা হয়। কিন্তু তাও খারিজ হয়ে যায়। সেই নির্দেশকে চালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি। আবেদনকারীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলার পরেও পুরসভা গঠনের বিষয়ে পদক্ষেপ না করা স্বেচ্ছাচারী এবং বৈষম্যমূলক। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে পিটিশনে। এই অবস্থায় হাই কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
দেবাশিস দে-র আইনজীবী কল্লোল বসু ও অনিন্দ্যসুন্দর দাস জানান, ২০০৭ সালে সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের সুপারিশ এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন-একাধিক পর্যায়ে এই উদ্যোগ এগিয়েছিল। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য মন্ত্রিসভা আমতলা পুরসভা গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। একই বছরের জুন মাসে রাজ্যপালের সচিবালয় থেকেও প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারির প্রস্তাবে সম্মতি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। কিন্তু এত কিছুর পরেও পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট, ১৯৯৩-এর ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী পুরসভা গঠনের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবীদের বক্তব্য, একই সময়ে অন্য কয়েকটি এলাকায় পুরসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আমতলার ক্ষেত্রে তা হয়নি। ফলে এলাকার বাসিন্দারা পুরসভাকেন্দ্রিক নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির উপর নির্ভর করছে আমতলা পুরসভা গঠনের ভবিষ্যৎ।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
