জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে জলে পড়ে গিয়েছিল ছেলে। সন্তানকে উদ্ধার করে গিয়ে জলে ভেসে যান মা! ঝাড়গ্রামের ঘাগরায় ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও এদিন দুপুর পর্যন্ত প্রীতি দত্তের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের দল আজ, রবিবার সকাল থেকে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে তাঁরা সপরিবারে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা বর্ধনপাড়ার বাসিন্দা ওই পরিবার। বাড়িতে এই মুহূর্তে প্রীতির শাশুড়ি ৭০ বছরের বেশি বয়সের আরতি দত্ত রয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে এই অঘটনের কথা এখনও জানানো হয়নি। বাইরের কাউকে বাড়ির ভিতরে ঢুকতেও দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবেশীরা ওই ঘটনার কথা গতকাল, শনিবারই জানতে পেরে হতবাক হয়েছেন। দ্রুত খোঁজ পাওয়া যাক, বাবা-মা-ছেলে তিনজনেই সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে আসুক। এমনই চাইছেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা।
বাবা, মা সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলেন ঝাড়গ্রামের ঘাগরায়। পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল সেখানে পা ঝুলিয়ে ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্ত বসেছিল। আচমকাই পা ফসকে পড়ে যায় সে। ছেলেকে পড়ে যেতে মা প্রীতি দত্ত ঝাঁপিয়ে পড়েন। স্ত্রী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে সাঁতার না জানলেও বাবা রাজদীপও ঝাঁপ দেন। তিনি ছেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও স্ত্রী জলের স্রোতে তলিয়ে যান।
জানা গিয়েছে, প্রীতি ও রাজদীপের প্রেম করে বিয়ে। কোল আলো করে আসে ছেলে প্রিয়ঙ্কন। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। একটি ট্যুর সংস্থার সঙ্গে তাঁরা ঝাড়গ্রাম বেড়াতে গিয়েছিলেন। দলে মোট ৩৬ জন ছিলেন। আজ, রবিবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এই মুহূর্তে ওই পরিবার প্রবল সংশয় ও আতঙ্কে কাটাচ্ছে। বাবা ও ছেলের শারীরিকভাবে সুস্থ। কিন্তু প্রীতির খোঁজ না মেলায় বাবা-ছেলে প্রবল দুশ্চিন্তায়। কাকা সমীর দত্ত চাইছেন, মিরাক্কেল হোক। ফিরে আসুক প্রীতি। পরিবার সূত্রেই জানা গিয়েছে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই খুব বেড়াতে ভালোবাসেন।
জলপ্রপাতের জলে কি ভেসে গিয়েছেন প্রীতি? উদ্ধারকারীদের অনুমান, ওই তরুণী পাথরের কোনও খাঁজেও আটকে থাকতে পারেন। গতকাল, শনিবার অধিকার রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় তল্লাশি চলে। এদিনও সকাল থেকে তল্লাশি অভিযান চলছে।