বিশ্বকাপের আগে ঠিক যে ছন্দটা খুঁজছিলেন, সেটাই যেন পেয়ে গেলেন লোকেশ রাহুল। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে ওয়ানডে-তে ব্যাট হাতে পেলেন লম্বা সময়। আর সুযোগ পেয়েই অপরাজিত ১২৯ রানের ইনিংস। শুভমান গিল, বিরাট কোহলিদের ব্যর্থতার দিনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে ওঠা সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে কী বললেন?
চণ্ডীগড়ের মুল্লানপুরে টসে জিতে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। প্রথম পাঁচ ওভারে একেবারে রানই তুলতে পারেনি মেন ইন ব্লু। তৃতীয় ওভারে আউট হয়ে যান গিল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো কোহলি নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেলেন। মাঝে একটা ওয়াইড বল বাদ দিলে পরপর দুই বলে দুই উইকেট। তৃতীয় ওভারে ভারত তখন ৪-২ স্কোরে ধুঁকছে। এরপর ইনিংস সামলান রোহিত শর্মা এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়। হিটম্যান ৯২ রানে আউট হতে ২৫তম ওভারে যখন রাহুল মাঠে নামলেন, ভারত তখন সাড়ে তিনশো পেরবে কি না, সেই নিয়ে যথেষ্ট সংশয়। নমন ধীর, নীতীশ রেড্ডি, অংশুল কম্বোজদের সঙ্গে জুটি গড়ে ইনিংস টেনে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৭ বলে ১২৯ রান করে অপরাজিত থাকলেন। ওয়ানডে কেরিয়ারে এটাই তাঁর সেরা ইনিংস।
Smiles, cheers, and celebrations all around
Scenes to cherish for KL Rahul and #TeamIndia
Updates
https://t.co/PhSJSbvW7C#INDvWI | @mflone_ | @klrahul pic.twitter.com/wFTPDqLlvt
— BCCI (@BCCI) October 3, 2026
ম্যাচের পরে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে রাহুল বলেন, “খুব ভালো লাগছে। প্রথমত, আমি মাঝের সময়টা চেয়েছিলাম। ওয়ানডেতে শেষবার জানুয়ারির শুরুতে রাজকোটে ভালো সময় পেয়েছিলাম। তার পরে খুব বেশি ব্যাট করার সুযোগ পাইনি।” তাঁর আক্ষেপ আরও স্পষ্ট হয় পরের কথায়। বলেন, “আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটা ছোট ইনিংস খেলেছিলাম। কিন্তু আমি আসলে কিছুটা সময় ক্রিজে কাটাতে চাইছিলাম। ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে। তাই ম্যাচে সময় পাওয়া আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।” রাজকোটে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১২ রানের পরের সাতটি ওয়ানডেতে রাহুল ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ৩৭ বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম দু’টি ম্যাচেও তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি। ফলে তৃতীয় ম্যাচে দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার সুযোগ পেয়ে তা যে নষ্ট করবেন না, শুরু থেকেই বুঝিয়ে দেন ভারতীয় ব্যাটার।
শুরুতে দেখেশুনে খেলছিলেন রাহুল। তবে ধীরে ধীরে ‘গিয়ার’ বদলান হিটম্যান। ৪১ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। সেঞ্চুরি আসে মাত্র ৮০ বলে। রাহুলের কথায়, “মাঠের বাইরে আমি কিছু জিনিস নিয়ে পরিশ্রম করেছি। সেগুলো ম্যাচে পরীক্ষা করতে চাই। কারণ ম্যাচেই বোঝা যায়, যে কাজটা করছি তা ঠিক পথে যাচ্ছে কি না। আর কী কী বদলানো দরকার, সেটাও তখন বোঝা যায়।” ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ছ’টি ছক্কা। এমন দুর্দান্ত ইনিংসও জেতাতে পারেনি শুভমান গিলের ভারতকে। ১০ বল বাকি থাকতে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫২ রান ৫ উইকেট হারিয়ে তুলে নেয় ক্যারিবিয়ান দল।


Scenes to cherish for KL Rahul and 