প্রাক্-শারদীয়ার মরশুমে ভিড় বেড়েছে তিলোত্তমায়। বিশেষত ধর্মতলা অঞ্চলে কেনাকাটার ভিড়ের চাপে যান-যন্ত্রণা বেড়েছে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন এলাকায়। এমনকী মা ফ্লাইওভার ধরে বাইপাসের দিক থেকে শহরে ঢোকার ক্ষেত্রেও সময় লাগছে অনেক বেশি। প্রাক্-ডার্বি সাংবাদিক সম্মেলনে আসার সময় যা ভালোই টের পেলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। নিউটাউনের ঠিকানা থেকে এক্সাইড মোড়ের হোটেলে আসার পথে। লাল-হলুদ হেডস্যর এতটাই দেরিতে পৌঁছালেন যে, সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হল নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর। আবার সাংবাদিক সম্মেলন শেষে ঘরের মাঠে প্র্যাকটিসে যাওয়ার ক্ষেত্রেও গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হল হাবাসকে।
তবে একটা ক্ষেত্রে খুব বেশি অপেক্ষা করতে রাজি নন হাবাস। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডার্বিতে মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে। আসলে এই লড়াইটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলাই লক্ষ্য লাল-হলুদ হেডস্যরের। শুনিয়ে গেলেন, “আমি চাই ম্যাচটা ৯০ মিনিটের মধ্যে জিততে। কারণ ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটে গড়ালে গোলকিপার ফ্যাক্টর হয়ে যায়। সেটা কৃতিত্বের বিষয় অবশ্যই। তবে আমার লক্ষ্য ৯০ মিনিটের মধ্যেই জয় নিশ্চিত করা।” শিল্ডের শেষ সংস্করণেও ডার্বি হয়েছিল ফাইনালে। সেই ম্যাচ টাইব্রেকারে হারে ইস্টবেঙ্গল। আর মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথ শুটআউটে কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেটা তাঁর প্রাক্তন কোচ হিসেবে হাবাস ভালোই জানেন। এবারও সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জোড়া সেভ করে সবুজ-মেরুনের জয়ের নায়ক হিমাচলের গোলকিপারই। ফলে ম্যাচটা শুটআউটে গেলে যে তাঁর দলই পিছিয়ে থেকে শুরু করবে, অজানা নয় হাবাসের। সে জন্যই হয়তো ৯০ মিনিটে ফাইনাল জেতার উপর বাড়তি জোর দিচ্ছেন তিনি।
সেমিফাইনালে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৭-২ গোলে জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। তবে সেই ‘কম্বিনেশন’ নিয়েই হাবাস ডার্বিতে নামবেন, তা নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই। কারণ জাতীয় দলে থাকা চার তারকা আনোয়ার আলি, প্রভসুখন সিং গিল, এডমুন্ড লালরিনডিকা এবং জয় গুপ্তা এদিন যোগ দিলেন অনুশীলনে। প্রথমজন ছাড়া বাকিরা অনুশীলনও করলেন পুরোদমে। এর আগে ডুরান্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। মরসুমের প্রথম ট্রফি জিতলেও সে দিন পাঁচ গোল না দিতে পারার দুঃখ রয়েছে লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে। মরসুমের দ্বিতীয় ট্রফি দেওয়ার প্রাক্ সন্ধ্যায় বারবারই ফুটবলারদের কাছে পাঁচ গোল দেওয়ার আবদার শোনা গেল লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে। যা শুনে ইস্টবেঙ্গলের নতুন ফরোয়ার্ড একে লোবা বলে গেলেন, “প্রথম ম্যাচে নেমেই গোল পেয়েছি। ডার্বির কথা অনেক শুনেছি। সেই ম্যাচে গোল করে সমর্থকদের খুশি করতে চাই।” যদিও দল সূত্রে খবর, সেমিফাইনালের মতো শিল্ড ফাইনালেও চার বিদেশি নিয়েই শুরু করবেন হাবাস। সেক্ষেত্রে পরিবর্ত হবেন লোবা ও লুকাস।