রাজ্যে পালাবদলের পরই প্রকাশ্যে এসেছিল স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রীর দাম্পত্যে চিড়ের খবর। জানা গিয়েছিল তাঁদের বিচ্ছেদ মামলার কথা। তা নিয়ে বিস্তর কাটাছেঁড়াও হয়েছে। এই প্রথম ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ। স্ত্রীর একাধিক আচরণের প্রতিবাদ করে ফেসবুকে লিখলেন, ‘পুরুষেরও কষ্ট হয়।’
ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে স্বরূপ ও জুঁই বিশ্বাসের বিচ্ছেদের মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্বরূপ চাইলেই মেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু তাঁকে না জানিয়েই নাকি বড় মেয়েকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাইরে, পড়াশোনার জন্য। অভিযোগ, সম্প্রতি ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন তিনি। এরপরই ফেসবুকে জুঁই গুণ্ডামির অভিযোগ তোলেন। এদিনের পোস্টে সেসব কথাই তুলে ধরেছেন স্বরূপ। তিনি লেখেন, ‘আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিটি অধ্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরার বিষয় নয়। কিন্তু নীরবতারও একটা সীমা আছে। নিজের সন্তানদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেও আমাকে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়, তখন নিজের বক্তব্য তুলে ধরা আমার কাছে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।’
দীর্ঘ পোস্টে নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছেন স্বরূপ। তিনি লিখেছেন, ‘পুরুষেরও কষ্ট হয়। পুরুষেরও চোখে জল আসে। পুরুষও অন্যায়ের শিকার হতে পারেন। কিন্তু অনেক সময় সমাজ পুরুষের যন্ত্রণাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, সমস্যা ও দূরত্ব তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই পারস্পরিক আলোচনা, বোঝাপড়া ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব। আবার কখনও সম্পর্কের বিচ্ছেদও অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের পরিণতি যাই হোক না কেন, তার মূল্য নাবালক সন্তানদের দিতে হবে কেন?’ সেই প্রশ্নেই জুঁইয়ের উদ্দেশ্যে স্বরূপের প্রশ্ন, ‘যদি ২০১৯ সালেই সম্পর্ক শেষ হয়ে থাকে, তাহলে বিচ্ছেদের মামলা করতে এতদিন সময় লাগলো কেন?’