অক্টোবরের শুরুতেই বিহার থেকে এনে বক্সা অভয়ারণ্যে ছাড়া হয়েছিল বাঘিনিকে। ২৪ দিনের মধ্যে সেই বাঘিনি বাংলা ছেড়ে অসমে চলে গিয়েছে। সেখানেই এই মুহূর্তে থাকছে সে। সেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে ফিরিয়ে আনতে এবার অসমে যাচ্ছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওঁরাও (Manoj Kumar Oraon)। কীভাবে ওই বাঘিনিকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা যায়? সেই বিষয়ে পড়শি রাজ্যে গিয়ে অসম সরকার, বনবিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এমন কথাই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আগামী কাল, শনিবারই তিনি অসম যেতে পারে।
কেন বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে গেল? সেই প্রশ্ন উঠেছে। বনমন্ত্রী বলেন, বলেন, “আমি কাল অসম যাচ্ছি। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে চাইছি। আধিকারিকরা অসমে রয়েছেন। আমিও যাব। অসম প্রশাসন আমাদের সাহায্য করছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “বাঘ নিশ্চিন্তে ঘোরাঘুরি করছে, শিকারও করছে। বেশি চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। যদি সেরকম মনে হয় তাহলে বাঘটিকে ধরে বক্সাতে ছেড়ে দেব।”
বক্সা অভয়ারণ্য দীর্ঘ সময় ধরে বাঘশূন্য ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে বক্সায় ফের বাঘ আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। গত ২ অক্টোবর বিহার থেকে আনা ওই বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়। বক্সায় বাঘের পরিবারের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই উপলক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও অন্যান্য মন্ত্রী-আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই বাঘিনিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দিন বক্সার জঙ্গলে তাকে খোসমেজাজে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে চলতি মাসের শেষে দিকে জানা যায়, বাঘিনি বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে গিয়েছে। এই মুহূর্তে সে অসমের রাইমোনার জঙ্গলে রয়েছে। রাইমোনা থেকে বক্সার দূরত্ব চার কিলোমিটার বলে জানা গিয়েছে।
কীভাবে বাঘিনিকে বাংলায় ফিরিয়ে আনা যায়? ফের এমন ঘটলে ভবিষ্যতের জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হবে? সেই বিষয়ে অসম সরকারের সঙ্গে বাংলার বনমন্ত্রী ও বন দপ্তরের আধিকারিকদের বৈঠক হবে। সেই কথা মনে করা হচ্ছে।
