উৎসবে হোক কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা – সদাসর্বদা যিনি পাশে থাকেন, তিনিই আসল বন্ধু। আজকের জেটযুগে, যেখানে প্রত্যেকে এককভাবে নিজেদের কেরিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত, সেখানে নতুন করে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা তৈরি করতে হয় বইকী। যিনি অত্যন্ত বড় সংকটেও নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকেন, তেমন বন্ধু পাওয়া আজকার বিরল। আর সেই বিরল প্রাপ্তি হয়েছে ইনফ্লুয়েন্সর ঝিলম গুপ্তর (Jhilam Gupta) জীবনে। তাঁর বিশেষ বান্ধবী পৌলমী গুহ তেমনই এক ব্যক্তিত্ব। গলব্লাডারে স্টোনের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পেতে অপারেশন হয়েছে ঝিলমের। আর তারপর হাসপাতালের বিছানায় বসেই ফেসবুক পোস্টে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করলেন পৌলমীর কথা। লিখলেন, ‘ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে ছবিতে আছেন পৌলমী, যিনি না থাকলে আমার অপারেশন টেবিল পর্যন্ত ঠিক সময়ে পৌঁছানো হত না।’

পুজোর ঠিক আগে বিস বস বাংলা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ইনফ্লুয়েন্সর ঝিলম গুপ্তা। কারণটা যে অসুস্থতা তা ঘোষণা করেছিলেন স্বয়ং ‘বিগ বস’। পরে জানা যায়, ঝিলমের গলব্লাডারে স্টোন হয়েছে এবং তা বেশ বড় আকার ধারণ করেছে। দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। সেসময় প্রবল যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বেশ কয়েকটা দিন খেলা ঠিকমতো খেলতে পারেননি ঝিলম। তারপরই তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে বিগ বস যাত্রায় ইতি টানতে হয়। তবে সেখান থেকে ফেরার পর ঝিলমকে দুর্গাপুজোয় বেশ সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল। কখনও হলুদ-লাল, কখনও কালো-সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবিতে বিশেষ বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে প্যান্ডেল হপিং থেকে শুরু করে বিগ বস বাংলার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিযোগীদের সঙ্গে বিজয়ায় সিঁদুরখেলা – ফেসবুকে উৎসবমুখর ছবি পোস্ট করেছিলেন ঝিলম নিজেই। পরে তিনি জানান, পুজোর সময় চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি বলে অপারেশন সম্ভব হয়নি। তাই যন্ত্রণা নিয়েই কয়েকটা দিন কাটিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে ঝিলম লেখেন, ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর ডক্টর সিদ্ধার্থ বিশ্বাস এর তত্বাবধানে আমার অপারেশন হয়েছে। OT-তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডাক্তার আত্রেয় সরকার, ডাক্তার বিদিশা দে এবং ডাক্তার ঋতব্রত ঘোষ। আর ডক্টর প্রসেনজিৎ মুখার্জির কথা না বললেই নয়। এঁদের সকলের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। তাঁরাই আমাকে উঠিয়ে বসিয়েছেন। চ্যানেল লাগানো হাতে পোজ দিয়ে ছবি তুললাম তাঁদেরই দেওয়া সাহসে ও ভরসায়। ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে ছবিতে আছেন পৌলমী, যিনি না থাকলে আমার অপারেশন টেবিল পর্যন্ত ঠিক সময়ে পৌঁছানো হতনা।’

লক্ষ্মীপুজোর পর ঝিলম ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই চলতি সপ্তাহে তাঁর গলব্লাডার স্টোন অপারেশন হয়। শনিবার ফেসবুকে ঝিলম সেই খবর জানিয়ে লেখেন, ‘অপারেশন সাকসেসফুল। অতিরিক্ত পরিমাণে সংক্রমিত হয়ে যাওয়া পুঁজে ভরা গলব্লাডার ও সেই সঙ্গে একটি কয়লার আকারের স্টোন আমায় কষ্ট দিচ্ছিল বহুদিন। অপারেশনের পর প্রচণ্ড ব্যথা আছে পেটে, কিন্তু সেই জন্য থেমে থাকলে হবেনা।’
চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রফেসর ডক্টর সিদ্ধার্থ বিশ্বাস এর তত্বাবধানে আমার অপারেশন হয়েছে। OT-তে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডাক্তার আত্রেয় সরকার, ডাক্তার বিদিশা দে এবং ডাক্তার ঋতব্রত ঘোষ। আর ডক্টর প্রসেনজিৎ মুখার্জির কথা না বললেই নয়। এঁদের সকলের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। তাঁরাই আমাকে উঠিয়ে বসিয়েছেন। চ্যানেল লাগানো হাতে পোজ দিয়ে ছবি তুললাম তাঁদেরই দেওয়া সাহসে ও ভরসায়। ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে ছবিতে আছেন পৌলমী, যিনি না থাকলে আমার অপারেশন টেবিল পর্যন্ত ঠিক সময়ে পৌঁছানো হতনা।’ ধন্যবাদ জানিয়েছে তাঁর অনুরাগীদেরও। যাঁরা সবসময় পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন, তাঁদের ঝিলম ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিজের পোস্টে। তবে এসব ছাপিয়ে ছোট্ট একটি বাক্যে পৌলমীর প্রতি তাঁর আবেগের কথাই সবচেয়ে নজর কেড়েছে নেটিজেনদের।
