অযোধ্যায় রাম মন্দিরে অনুদান চুরির (Ram Mandir Donation Theft Case) অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়টিতে নতুন করে নাক গলাবে না সুপ্রিম কোর্ট। এই সূত্রে সিবিআই তদন্তের আর্জিও খারিজ করল শীর্ষ আদালত। এদিন শুনানিতে উত্তর প্রদেশ সরকার আদালতকে জানায়, এই ঘটনায় আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপরই ‘সুপ্রিম’ নজরদারি বন্ধ করার কথা জানায় বিচারপতিদের বেঞ্চ। পাশাপাশি আবেদনকারীকে আইনি প্রক্রিয়ায় সাহায্য করার কথাও বলল শীর্ষ আদালত।
মামলা উঠেছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চে। আবেদনকারীরা রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও তিন বিচারপতির বেঞ্চ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আইন অনুযায়ী মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই আদেশের কারণে কোনও পক্ষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ অভিযোগগুলির সারবত্তা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত কোনও মত প্রকাশ করেনি। তিন বিচারপতির বেঞ্চ বলে, “যেহেতু এতে জনস্বার্থের বিষয়টি জড়িত রয়েছে, তাই আবেদনকারীকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাহায্য করার অনুমতি দেওয়া হল। কারণ আইন অনুযায়ী অপরাধের শিকার ব্যক্তিরাও আদালতকে সহায়তা করতে পারেন।”
উল্লেখ্য, অযোধ্যার রাম মন্দিরে অসংখ্য ভক্তের অনুদানের ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল মাস তিনেক আগে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। উত্তরপ্রদেশের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়। গোটা ঘটনায় বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ভূমিকা তুলে ধরে তুলোধোনা করে কংগ্রেসও। কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ সরকার ও শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টকে নোটিসও পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতে শুনানি চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সিটের তদন্ত রিপোর্ট পড়ে শোনান কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। ওই স্টেটাস রিপোর্টেই উল্লেখ করা হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত ১০৫টি চুরির ঘটনা ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজ থেকেই চিহ্নিত করা গিয়েছে একাধিক ব্যক্তিকে। অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণও পেশ করা হয়েছে আদালতে। অভিযোগ, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছিল ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না।
