Hashtagintro

সময় কাটে ছাদ বাগানের পরিচর্যায়! আজও লাল পতাকার টানে ছোটেন গোঘাটের অশীতিপর বামনেতা

নিজের বিধানসভা এলাকায় দলের সদস‌্য সংখ‌্যা মাত্র ১৫০! অথচ বিধায়ক থাকাকালীন এই সংখ‌্যাটা ছিল চার হাজার। সেই প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির ছাদে একশো টবের বাগান! গাছের পরিচর্যায় এখন দিনের অনেকটা সময় কাটে তাঁর। কিন্তু দলের প্রতি ‘আনুগত্য’ আগের মতোই। আশির দোরগোড়ায় পৌঁছেও লাল পতাকার টানে এখনও ছুটে বেড়ান প্রাক্তন বিধায়ক শিবপ্রসাদ মালিক।

একসময় বিধানসভার অলিন্দ থেকে গোঘাটের (Goghat) গ্রামগঞ্জ—সর্বত্রই ছিল শিবপ্রসাদের অবাধ যাতায়াত। মানুষের কথা শোনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি আর সংগঠনের কাজে দিন কেটে যেত। সময় বদলেছে, বদলেছে জীবনের ছন্দও। বিধায়ক নন। কিন্তু রাজনীতির ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। সাদা পাঞ্জাবি-ধুতি পরে এখনও টোটো-অটো-বাসে চড়ে ঘোরাঘুরি করেন। অংশ নেন দলীয় কর্মসূচিতে। শিবপ্রসাদ ১৯৮২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার হুগলির গোঘাটের ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে। ঘরের দু’পাশে আলমারি ভর্তি বই। দেওয়ালে সাজানো ট্রফি আর সার্টিফিকেট। বিধায়ক হিসাবে দীর্ঘদিন মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখন সংগঠনের দায়িত্ব সামলেই দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

শিবপ্রসাদের স্ত্রী আরামবাগ থানা কমিটির সদস্য, ভাই লোকাল কমিটির সদস্য। তবে মেয়ে রাজনীতিতে আগ্রহী নন। তিনি রাজনীতি থেকে শত হস্ত দূরে। দলের সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে শিবপ্রসাদ জানালেন, গোঘাটে সক্রিয় ও সহযোগী মিলিয়ে পার্টি সদস্যের সংখ্যা এখন ১৫০। একদা সেই সংখ‌্যা ছিল চার হাজার। তবে সংগঠন ধরে রাখার লড়াই যে সহজ নয়, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। গোঘাটের একাধিক পার্টি অফিস ভেঙে পড়েছে, কোথাও আবার দীর্ঘদিনের অবহেলায় নষ্ট হয়েছে পরিকাঠামো। এখন কামারপুকুরের নেতাজি ভবন থেকেই মূলত থানা পার্টির কাজকর্ম চলে। সাঁওড়াতেও রয়েছে একটি পার্টি অফিস। পুরনো সংগঠনের স্মৃতি আর বর্তমানের সীমাবদ্ধতা—দুইয়ের মাঝেই দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রবীণ এই নেতা। এখন শিবপ্রসাদের দিনের অনেকটা সময় কাটে বাড়ির ছাদে।

বাড়িতে জায়গার অভাব। তবু গাছের প্রতি ভালোবাসাকে আটকে রাখা যায়নি। তাই ছাদের উপরেই তৈরি করেছেন নিজের বাগান। সারি সারি টবে বেড়ে উঠছে গাছ। গাছগুলির যত্ন নেওয়াই তাঁর নিজের মতো করে সময় কাটানোর সঙ্গী। হেসে বললেন, “আমার একশোর উপর টব আছে। নিজের হাতেই জল দিই।” শিবপ্রসাদ মালিকের জীবন থেকে মুছে যায়নি দলীয় সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা। প্রাক্তন বাম বিধায়ক বলেন, “এখন রাজ্য জুড়েই ঘুরতে হচ্ছে। কমপক্ষে দু’টো করে জেলা ভিজিট করব। চলবে দলীয় কর্মসূচিও।’’

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language