Hashtagintro

‘আক্রান্ত’ চিত্র সাংবাদিক, সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষীর সভার খবর করে ফেরার পর ‘হামলা’

সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সভার খবর সংগ্রহ করে ফেরার পর আক্রান্ত সংবাদ প্রতিদিনের চিত্র সাংবাদিক সুশান্ত পাল। গত বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে আটকে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। বুধবার রাতের এই ঘটনায় বীরভূমের ময়ূরেশ্বর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে ময়ূরেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত চিত্র সাংবাদিক।

আক্রান্ত সাংবাদিক সুশান্ত পাল রামপুরহাট (Rampurhat) মহকুমার চিত্র সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত। বুধবার রাতে নিজের কাজ সেরে ময়ূরেশ্বর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঠিক রাত সাড়ে আটটা নাগাদ ময়ূরেশ্বরের ঘোষপাড়া এলাকায় তাঁর পথ আটকায় ৮ থেকে ৯ জনের একটি দুষ্কৃতী দল। অভিযোগ, নিষেধ করার পরেও সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের খবর করতে কেন গিয়েছিল এটা বলার পর আর কোনো কথা না বলেই বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। সুশান্তবাবুর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে হেলমেট থাকায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। এরপর জোর করে তাঁর মাথা থেকে হেলমেট খুলে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এখানেই থামেনি তারা। মারধরের পাশাপাশি তাঁর গাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু শারীরিক নিগ্রহই নয়, তাঁর মানিব্যাগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রেসের কাগজ এবং পকেটে থাকা নগদ প্রায় ৫৫০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আক্রান্ত সাংবাদিকের দাবি, সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সভার খবর সংগ্রহ করা নিয়েই তাঁকে এই হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। এর আগেও গত ১ নভেম্বর ওই রাজনৈতিক নেত্রীর সভাস্থলে যাওয়ার আগে তাঁকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং খবর না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই ক্ষোভের জেরেই এই পরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে বাসুদেব ব্লক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর এই বিষয়ে রানা ঘোষ, রাজু দাস, উত্তম ঘোষ ও লোকনাথ বাগদি এই চারজনের নাম নির্দিষ্ট করে ময়ূরেশ্বর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সুশান্ত পাল। অভিযোগের অনুলিপি বীরভূমের পুলিশ সুপার এবং রামপুরহাটের এসডিপিও-র কাছেও পাঠানো হয়েছে। এদিকে, অভিযোগের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো হামলাকারী আটক বা গ্রেপ্তার হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। বারবার ময়ূরেশ্বর এলাকায় সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ওপর এই ধরনের হামলা, হুমকি ও বাধার ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language