বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে (TMC BJP Clash) উত্তপ্ত হয়ে উঠল বড়জোড়ার তাজপুর গ্রাম। একের পর এক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর থেকে শুরু করে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দুই শিবিরের সংঘর্ষে ৫-৬ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও মারধরের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে ঘাসফুল শিবির। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগে কার্যত রাজনৈতিক সংঘর্ষের চেহারা নিয়েছে তাজপুর।
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপুরে বিজেপির দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে বড়জোড়ার তাজপুর গ্রাম থেকে তিনটি বাসে করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দুর্গাপুরে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, কর্মীরা গ্রামে ফেরার আগেই একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। একের পর এক বাড়িতে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালানো হয়। বাদ যায়নি বিজেপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ও। সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত পরিবারের সদস্য আয়েষা বিবির অভিযোগ, আচমকাই একদল লোক বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। আতঙ্কে বাড়ির লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করেন।
স্থানীয় বিজেপি কর্মী রেজাউল মণ্ডলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা দুর্গাপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপি নেতা সায়দার মণ্ডলের অভিযোগ, কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়েও আগুন লাগানো হয়েছে। বড়জোড়া ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি ধনঞ্জয় গরাইয়ের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমজাদের দাবি, বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি একাধিক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে তাজপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে।
