তৃণমূল নেই। অনুব্রত মণ্ডল বিদ্রোহী শিবিরে। প্রভাবও নেই। এই আবহে বোলপুরের নিচুপট্টি ‘কেষ্ট কালী’ পুজোয় এবার গেরুয়া ছোঁয়া! বাড়িপুকুর সম্মিলনী ক্লাবের কালীপুজোর (Birbhum Kali Puja) আয়োজনে এবার বিজেপির কার্যকর্তারা। কমেছে পুজোর জৌলুসও। ৬০ ফুট থেকে ১৫ ফুটের প্রতিমায় পুজোর নতুন অধ্যায়। শনিবার পুজোর উদ্বোধন হবে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের হাত ধরে। অনুব্রতর উপস্থিতি এখন অতীত!
নিচুপট্টির এই কালীপুজোর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) যোগাযোগ সেই নয় বছর থেকে। পাড়ার সকলকে নিয়ে নিজের হাতে মূর্তি গড়ে পুজো শুরু করেন। এলাকার মানুষের কাছে পুজোর পরিচিতি হয়ে ওঠে ‘কেষ্ট কালী’। একসময় পুজোর খুঁটিনাটিতে নজর রাখতেন অনুব্রত। প্রতিমার উচ্চতা কখনও ৪৫ ফুট, কখনও প্রায় ৬০ ফুট ছুঁয়েছে। মণ্ডপসজ্জা, তোরণ নির্মাণ থেকে শুরু করে উদ্বোধন সবক্ষেত্রেই ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। ২০২১ সালেও নিজের হাতে পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। পরে পুজোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় তাঁর ভাই প্রিয়ব্রত মণ্ডল ও স্থানীয় ক্লাব সদস্যদের হাতে। অনুব্রত তিহার জেলে বন্দি থাকাকালীন পুজোর জৌলুসে কিছুটা কমে। ২০২৩ সালে তৎকালীন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ পুজোর দায়িত্ব নেন। তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিমার উচ্চতা ও আয়োজনের পরিবর্তন এসেছে।
এবারে সেই ‘কেষ্ট কালী’ পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন বিজেপির কার্যকর্তারা। বিজেপির মুখপাত্র সুমিত মণ্ডল রয়েছেন পুজোর দায়িত্বে। তিনি বলেন, “এত দিন কয়েকজন নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত পরিচিতির জন্য এই পুজো পরিচালনা করেছেন। এটি কোনও ব্যক্তিবিশেষের পুজো নয়, বাড়িপুকুর সম্মিলনী ক্লাবের পুজো। এলাকার মানুষকে একত্রিত করেই এবার পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর থেকে মূর্তি আসছে। পুজো উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রসাদ বিতরণেরও ব্যবস্থা থাকছে।” অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “এই পুজোটি আমি শুরু করেছিলাম। পরে ক্লাবের হাতে দিয়ে দিই। এবার কী করবে, তা আমি বলতে পারব না।”
