শাই হোপের অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে টিম ইন্ডিয়া। তবে ৩৫২ রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছিল। শরীরে টান ধরেছিল হোপের। হাতে উইকেটও কম ছিল। কিন্তু মাথা ঠান্ডা রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জেতান। কোন মন্ত্রে বৈতরণী পার করেছেন? হোপ নিলেন ক্যাপ্টেন কুল মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম।
শনিবার মুল্লানপুরে ১৪৩ বলে অপরাজিত ১৬২ রান করে ক্যারিবিয়ানদের পাঁচ উইকেটে জেতান হোপ। ৪৮.২ ওভারেই জয়ের রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটাই তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। রান তাড়া করার সময় তাঁর মনে ঘুরছিল ধোনির কথা, “তুমি যতটা ভাবছ, তার থেকেও বেশি সময় তোমার হাতে থাকে।” তিনি আরও বলেন, “ধোনির সঙ্গে আমার দারুণ একটা আলোচনা হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, ‘তুমি যতটা ভাবছ, তার থেকেও বেশি সময় তোমার হাতে থাকে।’ তাই আমরা লক্ষ্য তাড়া করার দায়িত্ব ছোট ছোট ভাগে ভেঙে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ধৈর্য ধরে খেলেছি।”
শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পিছনেও ৫০ ওভার দায়িত্ব সামলেছেন হোপ। তার উপর ইনিংসের মাঝপথে কুঁচকির কাছে চোটের সমস্যাও দেখা দেয়। কিন্তু কোনও কিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি। তাঁর কথায়, “কুঁচকির কাছে একটা সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে চেয়েছিলাম।” প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান তোলে ভারত। কেএল রাহুলের অপরাজিত ১২৯, রোহিত শর্মার ৯২ এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ৫৭ রানের সৌজন্যে বড় রান করে ভারত। সিরিজ অবশ্য আগেই ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল ভারত।
Shai Hope: “A simple piece of advice from a very famous person MS Dhoni changed my ODI career completely.”
Thala Dhoni effect is real
pic.twitter.com/N6M0iRJlSL
— Zenith. (@Msdcore7) October 3, 2026
জবাবে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন হোপ। ভারতীয় দল অবশ্য তাঁকে শুরুতেই জীবন দেয়। ২০ রানও হওয়ার আগে তাঁর সহজ ক্যাচ ফেলেন গুর্নুর ব্রার। সেই সুযোগের খেসারত দিতে হল টিম ইন্ডিয়াকে। জন ক্যাম্পবেলকে ১০ রানে ফেরান মহম্মদ সিরাজ। কিন্তু আমির জাঙ্গু ফের একবার ভালো খেলেন। হোপের সঙ্গে ১০৯ রানের জুটি গড়ে ৬৭ রানে আউট হন তিনি। এরপর শারফেন রাদারফোর্ড ও কিমো পলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হোপ। রাদারফোর্ড ২৪ এবং পল ৪৪ রান করেন। একদিকে উইকেট পড়লেও টলানো যায়নি হোপকে। তাঁর ব্যাটেই আসে অবিশ্বাস্য জয়।
আর এমন জয়ের পর ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক বলছেন, “আমরা কয়েকটি জায়গায় খুব ভালো খেলেছি। ব্যাটারেরা ধারাবাহিক ছিল। বোলিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে। আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলব।” এর পরেই রয়েছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তাই হোপের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাঁর চোট। তবে তাঁর কথায়, “হাতে দু’দিন সময় আছে। আশা করছি, তার মধ্যে আমি খেলার মতো ফিট হয়ে যাব।”

