ক্রিকেটে এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। ব্যাটেই বল লাগেনি, অথচ বল সোজা উড়ে গিয়ে বাউন্ডারির বাইরে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। বাই চার নয়, এক্ষেত্রে হল ‘বাই ছয়’। দর্শকেরাও ছক্কা ভেবে উল্লসিত হয়ে ওঠেন। কানাডা সুপার সিক্সটির একটি ম্যাচে এমনই অদ্ভুত ঘটনা এখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মিসিসাগা মাস্টার্স বনাম টরন্টো সিক্সার্স। মাস্টার্সের জার্সি গায়ে বল করছিলেন মার্কিন পেসার আলি খান। ক্রিজের অন্য প্রান্তে কায়রন পোলার্ড। ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তিকে লক্ষ্য করে বাউন্সার দেন বিপক্ষ পেসার। তা পোলার্ড তো বটেই, উইকেটকিপারকেও টপকে গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে।
আলির একটি বাউন্সার পোলার্ডের মাথার অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। উইকেটকিপারকেও টপকে বলটি সোজা মাঠের ছোট সীমানা পেরিয়ে গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে। গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা। তাঁরা ভেবেছিলেন ছক্কা হয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের নিয়ম তো অন্য কথা বলছে। ব্যাটের কোনও স্পর্শ ছাড়া বল সরাসরি বাউন্ডারি পার হলে কখনওই ব্যাটারের ঝুলিতে ৬ রান যোগ হয় না। সেই কারণেই আম্পায়ার ওয়াইডের সংকেত দেন। আর যেহেতু বলটি ড্রপ না খেয়ে সীমানা পার হয়েছে, তাই বাই হিসাবে অতিরিক্ত আরও ৪ রান দেওয়া হয়। অর্থাৎ টরন্টোর খাতায় জমা পড়ে ৫ রান।
Who the freak has selected this carrom board ground for playing cricket. That ball has gone for a freaking six on a bouncer
https://t.co/zh2ENLiFuN
— Filter Kaafi (@DThirukkonda) October 5, 2026
ঘটনাটি শুধু মজারই নয়। প্রতিযোগিতার ছোট বাউন্ডারির ছবিটাও যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আলি খানের বাউন্সার সাধারণত ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে পারত। কিন্তু বলটি ব্যাটারের গায়ে বা ব্যাটে না লেগেই উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে উড়ে সীমানা পার করল! সেমিফাইনালে টরন্টো সিক্সার্স ১০ ওভারে ১৩০ রান তোলে। জবাবে মিসিসাগা মাস্টার্স ১০ ওভারে ১২১ রানেই থমকে গেল। ফলে ৯ রানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে টরন্টো।
শেষ ওভারে মিসিসাগার দরকার ছিল ১৮ রান। কিন্তু আবদুল রহিম টপ্পিন মাত্র ৮ রান দেন। ওই ওভারেই ফেরান বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আজম খানকে। সেখানেই শেষ হয়ে যায় মিসিসাগার লড়াই। তবে ফলাফলের থেকেও অধিক চর্চায় আলি খানের সেই ‘বিরল’ বাউন্সার। ক্রিকেটের বিচিত্র ঘটনার তালিকায় কানাডার এই ম্যাচের ঘটনাটি যে আলাদা জায়গা করে নিল, তা বলাই যায়।

https://t.co/zh2ENLiFuN