বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের আস্থা ফেরাতে আরও একধাপ এগোলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখার ঘোষণা করল তাঁর সরকার। সোমবার রাতে এই ঘোষণা জারি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রক। ইরান যুদ্ধের আঁচে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল কার্যত অধরা। তাই এখন রাত ৮টা অবধি শপিং মল ও দোকানপাট খোলা থাকে। তবে দুর্গাপুজোর সময় সারা দেশে শপিং মল খোলা থাকার সময় ২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত তা খোলা থাকবে। তাতে স্বভাবতই আনন্দিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়।
এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদানও বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গাপুজোর জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এর আগে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ২২ অক্টোবর ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল তারেকের মন্ত্রিসভা। ২২ অক্টোবরের ছুটির সমন্বয়ে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে পুজো উপলক্ষে সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীরা ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। এরপর সোমবার ঢাকায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর ছুটি থাকবে। ২২ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৭ অক্টোবর অফিস খোলা থাকবে। দশমীতে থাকবে সাধারণ ছুটি। পরদিন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবরও ছুটি ঘোষণা করেন। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
দুর্গাপুজো ঘিরে টানা পাঁচদিন ছুটি থাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব উদযাপনের সুযোগ বেড়েছে। সেইসঙ্গে এবার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদানও বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গাপুজোর জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় তাদের তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতি বছর দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদান দেওয়া হয়।
