প্রশাসক হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেবা প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে রাস্তায় আলপনা দেওয়া হচ্ছিল। অফিস টাইমে রাস্তা আটকে কেন আলপনা দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে বাম ও তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা রং-তুলি লাথি মেরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল হুগলির চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোডে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনজীবীরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ৩ দিন কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চন্দননগর মহকুমা আদালতের আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের পালটা দাবি, চন্দননগর মহকুমা আদালতে যাওয়ার পথ কার্যত আটকে আলপনা দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর ক্ষোভে আদালতের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন আইনজীবীরা। এরপর বেশ কিছুক্ষণ আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলে। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দননগর মহকুমা আদালতের আইনজীবী সুশান্ত সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন, চন্দননগর স্ট্যান্ডের সামনে আদালতে যাওয়ার সময় তাঁদের উপর কয়েকজন দুষ্কৃতী হামলা চালায়। আদালত চত্বরে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলে এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর উপরেও হামলা করা হয়।
সুশান্ত সেনগুপ্ত জানান, ঘটনার বিষয়ে চন্দননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। পাশাপাশি, ঘটনার প্রতিবাদে আগামী তিনদিন চন্দননগর মহকুমা আদালতের সমস্ত কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় আইনজীবীদের দুষেছেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তাঁর প্রশ্ন, আইনজীবীরা কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সমস্যা থাকলে আইনজীবীরা থানার দ্বারস্থ হতে পারতেন। সেক্ষেত্রে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত। বিধায়কের অভিযোগ, চন্দননগর শান্তির শহর। এই শহরে অশান্তি তৈরি হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। রাজনৈতিক মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁর কথায়, “কেউ নিজের পেশাকে ব্যবহার করে কোনও খারাপ কাজ করলে সাধারণ মানুষ তার জবাব দেবে।”
