২০৩৬ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে আরও একধাপ এগোল ভারত। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র জন্য ভারতের ভাবনা ‘রাইজিং টুগেদার’। বুধবার নতুন এই ভাবনা পেশ করল ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা (আইওএ)। যার কেন্দ্রবিন্দু গুজরাটের আহমেদাবাদ। লক্ষ্য, অলিম্পিককে হাতিয়ার করে দেশের যুবসমাজকে আরও বেশি করে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করা।
এর ঠিক এক দিন আগেই আইওসি জানিয়েছিল, ২০৩৬ গেমস আয়োজনের জন্য ‘কন্টিনিউয়াস ডায়ালগ’-এ থাকা সাতটি দেশের মধ্যে ভারতও রয়েছে। ভারত ছাড়াও রয়েছে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক। ২০২৪ সালে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের বিড জমা দিয়েছিল ভারত। গত ১৮ মাস ধরে আইওসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেই প্রস্তাবকে আরও বিস্তারিত রূপ দেওয়া হয়েছে। এবার পরবর্তী ধাপ আইওসির ‘ফিউচার হোস্ট কমিশন’-এর সামনে ভারতের পরিকল্পনা তুলে ধরা। আইওএ জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষেই প্রথমবার সেই পরিকল্পনা সরকারি ভাবে তুলে ধরা হতে পারে।
২০৩৬ গেমস আয়োজনের জন্য ‘কন্টিনিউয়াস ডায়ালগ’-এ থাকা সাতটি দেশের মধ্যে ভারতও রয়েছে। ভারত ছাড়াও রয়েছে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক।
আইওএর সভাপতি পি টি উষার কথায়, “রাইজিং টুগেদার কেবল স্লোগান নয়। ভারতের শক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বৈচিত্র্যকে একত্র করে অলিম্পিক স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।” উষার মতে, তরুণ ভারতের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে পারে এই অলিম্পিক। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিককে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের ক্রীড়াবিদ, মানুষ, শহর এবং অলিম্পিক-প্যারালিম্পিককে নিয়ে যদি একজোট হই, তা হলে এর সম্ভাবনা সীমাহীন।
আইওএর পরিকল্পনা, অলিম্পিককে সামনে রেখে শুধু দর্শক তৈরি নয়, তরুণদেরও মাঠমুখী করা। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গেও খেলাকে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে। ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যও এমন মনে করেন। তিনি বলেন, “২০৩৬-এর অলিম্পিক নিয়ে আমাদের ভাবনা খুব সহজ। খেলা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে পারে। অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজন করলে লক্ষ লক্ষ তরুণ খেলাধুলায় উৎসাহিত হবে। ফলে সুস্থ ও সক্রিয় সমাজ তৈরি হবে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।”
আইওএর পরিকল্পনা, অলিম্পিককে সামনে রেখে শুধু দর্শক তৈরি নয়, তরুণদেরও মাঠমুখী করা। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গেও খেলাকে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।
তবে ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক কে হবে, সে ব্যাপারে জানতে এখনও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। গত বছর কির্স্টি কভেন্ট্রি আইওসির সভাপতি হওয়ার পর পুরো প্রক্রিয়ায় ‘পজ অ্যান্ড রিভিউ’ করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় ফিউচার হোস্ট কমিশনের তত্ত্বাবধানে একাধিক ধাপে এগোবে বাছাই পর্ব। তাতে অবশ্য ভারতের উদ্যোগে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর, অলিম্পিক কমিটির সদর দপ্তরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে ভারতের প্রতিনিধিদল। সেখানেই আহমেদাবাদকে অলিম্পিকের সম্ভাব্য স্থান হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এদেশে এদেশে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক আয়োজনে খরচের অঙ্কটা ৩৪ হাজার ৭০০ কোটি থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। প্যারিস অলিম্পিকে খরচ হয়েছিল ৩২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজন করতে চাইলে তার দ্বিগুণেরও বেশি খরচ হতে পারে।
জানা গিয়েছে, ভেন্যু, অর্থ সংস্থান থেকে রাজনৈতিক ও জনসমর্থন সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। আইওসির এক্সিকিউটিভ বোর্ডের ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ‘কন্টিনিউয়াস ডায়ালগ’ থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগ’-এর জন্য কয়েকটি প্রস্তাব বেছে নেওয়ার কথা। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে ‘টার্গেটেড ডায়ালগ’-এর জন্য পছন্দের প্রার্থীদের ডাকা হবে। সব শেষে ২০২৯ সালের মাঝামাঝি আইওসি সদস্যদের ভোটেই নির্ধারিত হবে ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক।
