মহাদেব বেটিং অ্যাপ কাণ্ডের মূলচক্রী এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ চন্দ্রকর দীর্ঘদিন ওমানে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রবিবার ইন্টারপোলের সাহায্যে সিবিআই ভারতে ফেরাল ‘বেআইনি কর্মকাণ্ড’ ও ‘আর্থিক দুর্নীতি’তে অভিযুক্তকে। সিবিআই-এর একটি বিশেষ দল মাস্কাট গিয়ে সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে এনেছে বলেই খবর। সোমবার তাঁকে রায়পুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এর আগে মহাদেব বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে তাবড় তাবড় সেলিব্রিটি, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে অভিনেতা, এমনকী খেলোয়াড়দের। তালিকায় রয়েছেন ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, অভিনেতা রণবীর কাপুর, শ্রদ্ধা কাপুর, কপিল শর্মা, হুমা কুড়েশি, হিনা খান প্রমুখ।
সৌরভের বিরুদ্ধে সিবিআই-এর দু’টি মামলা রয়েছে। যেগুলোতে ইতিমধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এছাড়াও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র আরও একটি আলাদা মামলা রয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যর্পণের পর অভিযুক্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। সিবিআই তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ড পাওয়ার পর রায়পুরে নিয়ে যাবে বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসেই মহাদেব বেটিং অ্যাপ কাণ্ডের আরেক মূলচক্রী অভিষেক কুমারকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই।
সিবিআইয়ের দাবি, বেটিং অ্যাপের কেলেঙ্কারির টাকাতে দুবাইয়ে বিপুল সম্পত্তি কেনেন অভিষেক কুমার। তাঁর সঙ্গে মহাদেব বেটিং কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্রকর ও শুভম সোনির যোগ ছিল। ২৪ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। পরে ট্রানজিট রিমান্ডে রায়পুরে আনা হয় তাঁকে। সিবিআই তদন্তে উঠে আসে, অনলাইনে বাজি ও জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনায় অভিষেক কুমার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া তিনি বাজি ধরার বিভিন্ন প্যানেলের সমন্বয় সাধন, টাকা সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পরই তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে অপরাধমূলক নথিপত্র ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এরপরেই ওমানে পালানো সৌরভ চন্দ্রকরকে ভারতে ফেরানোর বিষয়ে তৎপর হয় সিবিআই। শেষ পর্যন্ত রবিবার তাঁর প্রত্যর্পণে সাফল্যে এল। মনে করা হচ্ছে এবার গতি আসবে।
উল্লেখ্য়, ২০২৩ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে মহাদেব বেটিং অ্য়াপ কেলেঙ্কারি। মূলত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই মেটিং চক্র খুব জনপ্রিয় হয়। কোনও বিশেষ খেলা বা ক্রিকেট ইভেন্টের সময় এই অ্যাপগুলি বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অ্যাপের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বাজি ধরা হয়। বেআইনিভাবে ব্যাপক টাকাপয়সার লেনদেন চলে। শুধু অ্যাপ নয়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও চলে বেটিং চক্র। এই জালিয়াতিতেই নাম জড়ায় একাধিক অভিনেতা, সেলিব্রিটি এমনকী রাজনৈতিক ব্য়ক্তিত্বেরও। রণবীর কাপুর, তামান্না ভাটিয়া, শ্রদ্ধা কাপুরদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তে উঠে আসে, এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রচুর কালো টাকার লেনদেন হত। দুবাই থেকে এই অ্যাপের কাজকর্ম চলত। আগেই এই কেলেঙ্কারির কিংপিং অভিষেক কুমারকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। এবার ফেরানো হল মূলচক্রী ও সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ চন্দ্রকরকে।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
